Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts
Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts

Sunday, March 20, 2022

হাওয়ার্ড জিনের ‘এমা’: এক আজন্ম-বিদ্রোহী নারীর প্রতিচ্ছবি



সংক্ষেপে এমা গোল্ডম্যানকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য বলা যায়, তিনি গত শতকের একজন এনার্কিস্ট রাজনৈতিক এক্টিভিস্ট ও লেখক। কিন্তু এতে তাঁর বিদ্রোহী, দুরন্ত ও স্বাধীনতাকাঙ্খী উত্তাল জীবনের নাগাল পাওয়া যাবে না। একটা ছোট ঘটনা এমার উত্তাল জীবন সম্পর্কে পাঠককে হালকা আঁচ দিতে পারে। এমার প্রেমিক ও সঙ্গী আলেক্সান্ডার বার্কম্যান (তিনিও প্রখ্যাত এনার্কিস্ট এক্টিভিস্ট ও চিন্তুক) শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য হেনরি ক্লে ফিক নামক এক কর্তাব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা করেন, কিন্তু কেবল আহত করতেই সক্ষম হন। বার্কম্যান গ্রেফতার হোন, ২২ বছরের জন্য জেল হয়। জেলে হয়তোবা তাকে মেরে ফেলা হতে পারে, এমন উদ্যোগের কথা তিনি এমাকে জানান। এমা ও তাঁর বন্ধুরা মিলে বার্কম্যানকে জেল থেকে বের করে আনার এক অকল্পনীয় ও অবাস্তব উদ্যোগ নেন। জেলখানার খুব নিকটে একটি বাড়ি ভাড়া করেন তারা, সেখান থেকে একটা টানেল খোড়া শুরু করেন। উদ্দেশ্য একেবারে জেলের উঠান পর্যন্ত খনন করবেন। যখন তারা গর্ত খোঁড়ার কাজ করতেন তখন একজন পিয়ানো বাজাতেন, যেন কর্তৃপক্ষ টের না পায়। কিন্তু কপাল খারাপ। একদম শেষ প্রান্তে কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে যায়। ফলে এমার ‘অবাস্তব’ এই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয় না।

Thursday, October 1, 2020

ঔপনিবেশিক সমাজের যেকোন বাসিন্দাই ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারের সাথে নিজেকে সম্পর্কিত করতে পারবে: নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গো



এই সময়ে যারা উপনিবেশবাদ ও উত্তর-উপনিবেশবাদ নিয়ে লেখালেখি করেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আফ্রিকান বুদ্ধিজীবী হচ্ছেন নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গো। নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গো কেনীয় ঔপন্যাসিক, কবি ও উত্তর-উপনিবেশিক তাত্ত্বিক। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় “ইংরেজি ও তুলনামূলক সাহিত্য” পড়ান। ইংরেজি ও গিকুয়ু ভাষায় লিখেন। তাঁর Decolonising the Mind (১৯৮৬) বইটি উত্তর-উপনিবেশিক তত্ত্বচর্চায় ক্লাসিকের সম্মান পেয়ে আসছে। এই বইটি একাডেমিক জগতের পণ্ডিতদের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মীদের জন্যও ভীষণ কাজের বলে বিবেচিত। গত ২৬শে সেপ্টেম্বরে অর্জুন চতুর্বেদি’র(Arjun Chaturvedi) সাথে থিয়োঙ্গোর একটি কথোপকথন ‘JACOBIN’ ওয়েবপোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি আলাপ করেছেন চলমান ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের রাজনীতির সাথে তাঁর লেখালেখির সম্পর্ক নিয়ে। কেনিয়ার বর্ণবাদ ও সহিংসতার অভিজ্ঞতার সাথে তাঁর রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক কাজকারবার এবং বর্তমান জমানার নাগরিক অসন্তোষকে মিলিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন কীভাবে উপনিবেশিক উত্তরাধিকার কেনিয়ার রাজনীতিকে আকার-প্রকার দিচ্ছে এবং কেন ভাষা এখনো রাজনৈতিক যুদ্ধের ময়দান হিসেবে রয়ে গিয়েছে। অনুবাদটি পূর্বে বোধিচিত্তে প্রকাশিত হয়েছে। 

Monday, June 29, 2020

আলতাফ পারভেজের বয়ানে আলথুসের ও মার্ক্সীয় রাষ্ট্রতত্ত্বের ঐতিহ্যে ‘ভাবাদর্শ’


‘(যে রাষ্ট্রকে সমাজের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে সেই) রাষ্ট্রকে সমাজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসাই হলো মুক্তি’ -কার্ল মার্ক্স

 

বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ডের জনগণ হিসাবে আমরা অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটো রাষ্ট্রের জন্ম-প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত হলেও আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জগত ও পরিমণ্ডলে রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তাভাবনার অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। এমনকি, রাষ্ট্রনৈতিক যে হাজার রকমের চিন্তাভাবনা দুনিয়াজুড়ে চালু রয়েছে সেগুলো সম্পর্কেও আমাদের অদ্ভুত অনীহা রয়েছে। (হয়তোবা এর কোনো ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে, ইতিহাসের মধ্যে সেটার সন্ধান করাও জরুরি।) এই জন্যই বোধহয় এখনকার বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে দেশ, রাষ্ট্র, সরকার ধারণাগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে; ব্যতিক্রম তো অবশ্যই আছে।

Friday, June 5, 2020

এনিমেল ফার্মের ‘ভূমিকা’ ও বাক স্বাধীনতার প্রসঙ্গ


এনিমেল ফার্ম অরওয়েলের শৈল্পিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে একীভূত করার প্রথম সচেতন প্রয়াস; কথাটা আমার নয়, খোদ জর্জ অরওয়েলই বলেছেন। এই উপন্যাস লেখার চিন্তা তার মাথায় এসেছিল ১৯৩৭ সালের দিকে, এবং ৪৩ এর আগ পর্যন্ত এটা লিখতে পারেন নি। এই সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হিটলারের বাহিনীকে পরাস্ত করতে ব্রিটিশ শক্তি ও সোভিয়েত শক্তি হাতে হাত মিলিয়ে একত্রে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছিল। ব্রিটিশদের সাথে সোভিয়েতের এই ক্ষণিকের ‘প্রেম’ অরওয়েলের এই ‘সচেতন প্রয়াস’ প্রকাশে নানারূপী বাঁধা হাজির করেছিল। এনিমেল ফার্ম প্রকাশে তাকে যে ঝুট-ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল এবং এমন ঝুটঝামেলা আসলে কোন প্রবণতাকে স্পষ্ট করে তার এক প্রস্থ বিবরণ তিনি বইয়ের ‘ভূমিকা’য় উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু, দুঃখজনকভাবে এই ভূমিকা ছাড়াই এনিমেল ফার্ম প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে, এবং ১৯৭১ এর আগ পর্যন্ত এই ভূমিকার হদিস পাওয়া যায় নি। একাত্তরে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে ‘দি ফ্রিডম অব প্রেস’ শিরোনামে এই ভূমিকা পাওয়া যায়, এবং বাহাত্তরে সেটা আলোর মুখ দেখে।

Friday, April 3, 2020

‘নারীবাদী প্রস্তাবনা’ : একটি খসড়া পাঠ প্রতিক্রিয়া


২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, সুইডেনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের ১৬ বছর বয়সী সকল নাগরিকের (বলা যায় কিশোর-কিশোরী, বা শিক্ষার্থী) কাছে একটি বই বিতরণ করবে। ক্যাম্পেইনের কর্তাব্যক্তিরা আশা করেছিলেন যে, এই বই জেন্ডার ও নারী-পুরুষের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা শুরু করতে, এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সাহায্য করবে। বইটির নাম হচ্ছে উই শুড অল বি ফেমিনিস্ট, বাংলায় বললে দাড়ায়, আমাদের সকলের নারীবাদী হওয়া উচিৎ। লেখকের নাম চিমামান্দা এনগোজি অ্যাদিচে; একজন নাইজেরিয়ান লেখক। উপরোক্ত ক্যাম্পেইনের একজন (নারী) এই বই সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আফসোস সহকারে বলেছিলেন, আহা, আমি যখন ১৬ বছর বয়সী ছিলাম তখন যদি আমার ছেলে বন্ধুদের এই বইখানা পড়াতে পারতাম!

Saturday, February 22, 2020

রাফিনের 'এক অসাধারন অন্ধ সময়ের স্মৃতি': আমাদের সময়ের প্রতিবেদন



রাফিনের 'এক অসাধারণ অন্ধ সময়ের স্মৃতি' শুরু হয়েছে তিনজন বিখ্যাত ব্যক্তির তিনটা উদ্ধৃতি দিয়ে। আমি যেভাবে এই তিনটা উদ্ধৃতি পাঠ করছি তা এরকম: কোনো পরাজয়ই শেষ পরাজয় নয়, মরণেরও হৃদয় আছে, এবং ক্ষমতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম আসলে ভুলে যাওয়ার বিরুদ্ধে স্মৃতিরক্ষার সংগ্রাম। এই তিন উদ্ধৃতির একটা মিশেল হচ্ছে রাফিনের এই 'উপন্যাস'। উপন্যাস শব্দকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখার কারণ আছে, পরে বলা হবে।

Wednesday, January 1, 2020

করিমের 'ভাটির চিঠি' পাঠ: রাষ্ট্র ও নির্বাচন বিষয়ক ছোট নোট


শাহ আবদুল করিম ভাটির এলাকায় বসে সেই কবে চিঠি লিখে তাঁর এলাকার মানুষে জীবন-যাপনকে তুলে ধরেছেন, নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনের অভিজ্ঞতায় 'রাষ্ট্র' ও তার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন, নিজের মতো করে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন রাষ্ট্রীয় কলকব্জাকে, এবং, অদ্ভুতভাবে হলেও এতো নিখুঁত ও বিস্তৃত দৃষ্টি সাধারণত গবেষকের কাছ থেকেও আশা করা যায় না, অথচ ২০১৯'র শেষ প্রান্তে বসে আমি অবাক হয়ে পড়ছি তার সেই 'ভাটির চিঠি'।

Wednesday, November 27, 2019

ইলিয়াসের ডায়েরি: নজরুল, ভাসানী, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও অন্যান্য

ছবিতে ব্যবহৃত স্কেচ অনলাইন থেকে নেয়া হয়েছে।
প্রচ্ছদে ব্যবহৃত স্কেচ অনলাইন থেকে নেয়া হয়েছে।


আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। ইলিয়াস বাংলা কথাসাহিত্যের একটি মানদণ্ড হয়ে আছেন। তাঁর গল্প-উপন্যাস যেমন শিল্পের জন্য ক্ষুধার্ত মনের খোরাক জুগিয়ে যাচ্ছে, তেমনি তাঁর গল্প-উপন্যাসের চুলচেরা বিশ্লেষণও চলছে। ইলিয়াস ডায়রি লিখতেন। সেই ডায়রিগুলো নিয়ে আরেক কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের সম্পাদনায় ‘আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ডায়রি’ শিরোনামে বই প্রকাশিত হয়েছে। শাহাদুজ্জামান এককালে ইলিয়াসের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, এটি তাঁর ‘কথা পরম্পরা’ বইতে আছে। শুধু আমার দৃষ্টিতেই নয়, অনেকেই মনে করেন, বাংলাসাহিত্যের অন্যতম ধ্রুপদী উপাদান হচ্ছে শাহাদুজ্জামান - ইলিয়াসের এই কথোপকথন। ইলিয়াসকে বোঝার জন্য, তাঁর সাহিত্যের গভীরতা বোঝার জন্য এই সাক্ষাৎকার যে কোনো পাঠকের জন্যই - তা তিনি সাহিত্যিক হোন আর গবেষক হোন - সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে ইলিয়াসের ডায়রিটাও। বইয়ের ভূমিকায় শাহাদুজ্জামান জানাচ্ছেন যে, ‘ডায়েরি অন্তরালে চর্চার বিষয়। এতে ফুটে থাকে একজন ব্যক্তিমানসের মানচিত্র।’ ব্যক্তিমানসের মানচিত্রও তো আবার স্থান-কাল নিরপেক্ষ নয়, উপরন্তু, এই ব্যক্তি যদি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হয়ে থাকেন তাহলে আমাদের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। তবে, এখানে পুরো ডায়েরি নিয়ে আলোচনা নয়। কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে ইলিয়াসের কিছু আগ্রহোদ্দীপক মন্তব্য রয়েছে ডায়েরিতে, সেগুলোই তুলে ধরবো। হুবুহু। 

Wednesday, August 28, 2019

জহির রায়হানের ছোটগল্প : মধ্যবিত্ত শ্রেণির চিত্র ও তার সময়


জহির রায়হানের ‘গল্পসমগ্রে’ গল্পের সংখ্যা একুশ। হিসেব করলে এই সংখ্যাটা একেবারেই নিতান্ত, কিন্তু মাত্র ৩৬ বছরের যে অল্প হায়াত নিয়ে দুনিয়াতে এসেছিলেন সেই সময়ে তার কাজের পরিধির নিরিখে এই সংখ্যাটাও অনেক বলে মনে হবে। সিনেমা নির্মাণ করছেন, উপন্যাস লিখছেন, গল্প লিখছেন—সেই সাথে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন তার সময়কার যাবতীয় আন্দোলন-সংগ্রামে। সিনেমার জগতে কোনো সন্দেহ নেই জহির রায়হান এক মহীরুহ; ছোটগল্পেও তিনি সফল। উপন্যাসের সাথে তুলনা করে কেউ কেউ মন্তব্য করেন যে, উপন্যাসের চাইতে ছোটগল্পে তার ভাবালুতা কম। বলেছেন, ‘চেতনার উৎসারণে এবং আধার পরিচর্যার সতর্কতায় ছোটগল্পের রচয়িতা হিসাবেই জহিরের ঔজ্জ্বলতা। সম্ভবত উপন্যাস রচনার মতো ধৈর্য তার ছিল না।’ শুধু ধৈর্য কেন, হায়াতের কথা মনে রাখলে এও বলা যায়, জীবন তাকে পর্যাপ্ত সময় দান করে নি। জহির রায়হানের জন্ম-মৃত্যুর বছরটাকে মনে রাখলেই বুঝতে পারার কথা, জহির রায়হানের সমগ্র কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছিল ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে, বিশেষ করে বর্তমানে বাংলাদেশ নামে দুনিয়ার মানচিত্রে জায়গা করে নেয়া এই ভূখণ্ডের এক উত্তাল সময়ে। জহির রায়হানের গল্পের সমাজ ও বাস্তবতার হদিস পেতে হলে সে আমলের সমাজকেও আমাদের আমলে নিতে হবে।

Tuesday, March 5, 2019

কাশ্মীরের আর্তনাদ



কাশ্মীর, ফিলিস্তিন সংক্রান্ত ইস্যুগুলো যখন কোন কারণে - মূলত যুদ্ধের কারণেই - আমাদের কাছে আলোচিত ইস্যু হিসাবে ফেসবুকের নিউজফিডে ঘুরপাক খায় তখনই আমাদের জানা-শোনার সীমাবদ্ধতা প্রকটভাবে ধরা পড়ে। ভারত-পাকিস্তানের যাবতীয় যুদ্ধসংক্রান্ত আলোচনার সবচেয়ে বড় অংশ আসলে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে। কিন্তু দুঃখজনক হলে সত্য যে, ব্রিটিশদের বিদায়ের পর হতে ভারতবর্ষের যেকয়টা অঞ্চলে এখনো আগুন জ্বলছে তারমধ্যে কাশ্মীর অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও এর সম্পর্কে আমাদের জানা-শোনা একেবারেই সীমিত। তাই, কেন্দ্রে কাশ্মীর না থেকে কেন্দ্রে চলে আসে ভারত না হয় পাকিস্তান। যারা ভারতীয় মিডিয়ার প্রপাগান্ডা হজম করে ফেলেন তাদের অবস্থান ভারতের পক্ষে, এবং যারা পাকিস্তানের প্রপাগান্ডা হজম করেন তারা পাকিস্তানের পক্ষে। কিন্তু, কখনোই কেন্দ্রে থাকে না কাশ্মীর। এ নিয়ে জানার পাইপলাইনটাও সীমিত। আলতাফ পারভেজের 'কাশ্মীর ও আজাদির লড়াই' গ্রন্থের গুরুত্ব এখানেই যে, যারা কাশ্মীর নিয়ে জানতে চান তাদের জন্যে এটা হতে পারে এক দরজার মতোন। তথ্যে ঠাসা একটা গাইড বই যেনো; সাথে সহজ-সরল উপস্থাপনা।

Saturday, December 1, 2018

জিব্রানের 'কবরের কান্না'

   

কাহলিল জিব্রানকে আমরা যেভাবে চিনি ও জানি, বিশেষ করে তার বহুল পঠিত ‘দ্যা প্রফেট’ কিংবা বিভিন্ন প্যারাবল এর মাধ্যমে, তাতে তার ‘কবি’ এবং ‘ধ্যানমগ্ন ঋষি’ পরিচয় যতটা পাওয়া যায়, ‘বিদ্রোহী’ পরিচয় ততটা পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ‘কবি’ পরিচয় যে অন্যান্য সব পরিচয়কে ছাড়িয়ে গিয়েছে সেটা তাঁর এক অনুবাদকের মন্তব্য থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়। “শুধু কবিতা বলি কেন, তাঁর দর্শন, চিত্রকলা, গল্প, উপন্যাস সবই কবিতা”। কিন্তু, তাঁর ‘বিদ্রোহী’ পরিচয়ের সন্ধান না পেলে জিব্রান পরিপূর্ণভাবে আমাদের কাছে ধরা দিবেন না।

Tuesday, November 6, 2018

হুমায়ূন আহমেদ সমাচার: একটি 'সহজ' প্রস্তাব।


হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্মের প্রচুর সমালোচনা রয়েছে, এমনকি প্রচণ্ড জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও। একজন লেখকের সেটা থাকাই স্বাভাবিক বলে মনে করি, সময়ে সময়ে একজন লেখক সম্পর্কে মূল্যায়নগুলো পরিবর্তন হয়, এটাও স্বাভাবিক। বিশেষ করে তার লেখা-পত্র বা সৃষ্টিকর্ম একটা প্রজন্মকে ‘বি-রাজনৈতিক’ হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল এটাই সবচেয়ে বড় বা সর্বাধিক প্রচারিত সমালোচনা। বাংলা কমিউনিটি ব্লগ যখন তুঙ্গে তখন হুমায়ূন আহমেদকে ‘পুস্তক ব্যবসায়ী’ আখ্যা দিয়েও অনেক লেখা বেশ বাজার গরম করেছিল। তার বিরুদ্ধে ‘অপ-বিজ্ঞানের চর্চা, কুসংস্কার জিয়িয়ে রাখার চেষ্টা’র বেশ ‘গুরুগম্ভীর’ অভিযোগও তোলা হয়েছিল।

Saturday, September 8, 2018

কাহলিল জিব্রানের The Madman: কয়েকটি প্যারাবল


[১৮৮৩ সালে কাহলিল জিব্রান লেবাননের উত্তরে এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাহলিল একজন ট্যাক্স কালেক্টর ছিলেন। মায়ের নাম ছিল ক্যামিলা রামেহ। ১৮৯৫ সালে জিব্রানের মা তার চার সন্তানকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে বোস্টনে পাড়ি জমান। ১৮৯৮ সালেই জিব্রান আবার লেবাননে চলে আসেন আরবি এবং ফ্রেঞ্চ শেখার জন্যে। আবারো বোস্টনে ফিরে যান তিনি আরো ৪ বছর পরে, ১৯০২ সালে। এর মাঝে যক্ষ্মা ও ক্যান্সারের কারণে তিনি হারিয়ে ফেলেন তার এক বোন, এক ভাই এবং মাকে। ১৯০৮ সালে তিনি পাড়ি জমান প্যারিসে, আর্টের জন্যে। ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয় তার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম “The Prophet”। কেউ কেউ বলেন, "the most loving book ever written."। ১৯৩১ সালে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে নিউইয়র্কের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অতঃপর তার দেহ নিয়ে যাওয়া হয় লেবাননে। উল্লেখ্য, ১৯১৮ সালে প্রকাশিত The Madman বইটা তার প্রকাশিত প্রথম ইংরেজি সাহিত্যকর্ম। আর হ্যাঁ, ছবিগুলো জিব্রানেরই আঁকা]

Tuesday, August 14, 2018

জহির রায়হান: মুক্তির আলো জ্বালাতে চেয়েছিলেন যিনি



‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমা শেষ হয়েছিল ‘মুক্তি’ নামের এক নবজাতকের জন্মের মধ্য দিয়ে এবং সিনেমার মুক্তির মাত্র এক বছরের মধ্যেই পাকিস্তানিদের কারাগার থেকে আমরাও মুক্তি পেয়েছিলাম; সেটা ছিল বহু ত্যাগের, বহু রক্তের, বহু সংগ্রামের মাধ্যমে প্রাপ্ত মুক্তি। তাই আমরাও সিনেমার নবজাতককে পাকিস্তানের কারাগার থেকে প্রাপ্ত এই মুক্তির সাথে মিলিয়ে দেখতে পছন্দ করি, এবং দেখিও। তবে, আরেকটা প্রশ্নও উত্থাপন করা যায়, সিনেমায় জহির রায়হান যে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কিংবা দেখেছিলেন সেটা কি ‘একাত্তরে’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল নাকি আরো বড় কিছু ছিল? এবং যদি আরো বড় কোন মুক্তির কথা বলা হয়েই থাকে ইতিহাসের পরবর্তী পর্যায়ে তার কতটা আমরা অর্জন করতে পেরেছি? উত্তরের সন্ধান তাঁর সেই সিনেমার মধ্যেই করা যেতে পারে।

Sunday, April 1, 2018

জহির রায়হানের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ও আমাদের আফসোসের গল্প


জাতীয় জীবনে কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যা সে ঘটনাত্তোর যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে; প্রাত্যহিক জীবন থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্য সবকিছুই সে প্রভাব-বলয়ের ভেতরে থাকে। কখনো ঘটনার পটভূমি ও এর চেতনা জন্ম দেয় লেখক - কবিকে, আবার কখনো লেখক-কবিদের অস্তিত্বের বিরাট অংশ জুড়ে থাকে সেই ঘটনা। বাঙালির  জীবনে বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন তেমনই এক অভূতপূর্ব সময়, যা একদিকে আমাদের জন্যে সৃষ্টিশীল ও মননশীল কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছিলে, অন্যদিকে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছিল সকল অন্যায়-শোষণের বিরুদ্ধে, প্রেরণা দিয়েছিল এক নতুন রাষ্ট্রের জন্মদানে। সৈয়দ শামসুল হক তো তাদের প্রজন্মকে ‘ভাষা আন্দোলনের সন্তান’ বলেই চিহ্নিত করেছিলেন। বায়ান্ন’র ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক ক্ষণে ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী প্রথম দশজনের মধ্যে একজন ছিলেন জহির রায়হান। জহির রায়হানের সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে যে কোন আলোচনার শুরুতে এই তথ্য মাথায় গেঁথে নেয়া উচিৎ; কেননা সে আন্দোলন তাঁর জীবনে এত গভীর ছাপ ফেলেছে যে, হুমায়ূন আজাদ রায় দিয়েছেন, জহির রায়হান সম্ভবত বাংলাদেশের একমাত্র কথাসাহিত্যিক যার উদ্ভবের পেছনে আছে ভাষা আন্দোলন। যদি বায়ান্নর একুশ না ঘটত তবে জহির রায়হান হয়ত কথাশিল্পী হতেন না।

Sunday, January 21, 2018

মিডিয়া: মনোজগতে উপনিবেশ



যদি বলি, আপনি - আমি প্রতিদিন যে মতামত দিচ্ছি, যে রুচির পরিচয় দেখাচ্ছি, যে কাপড়-চোপড় পরছি তার কোনটাই আমার আপনার একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্ত না, কোন না কোনোভাবে বিষয়গুলো অধিকাংশ সময় মাথায় কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে, তাহলে কি খুব ভুল বলা হবে?