Showing posts with label একাত্তর. Show all posts
Showing posts with label একাত্তর. Show all posts

Wednesday, December 16, 2020

বিজয়ের উদযাপনের মধ্যে উৎকট ‘জাতীয়তাবাদ’ ছাড়া আর কোনো কিছুই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না



কিশোর দা জেলে, সাংবাদিক কাজল জেলে, মত প্রকাশের দায়ে হরহামেশা জেলে যাচ্ছেন নাগরিকরা, ক্রসফায়ার নিত্য সঙ্গী, ঘাড়ের উপর ভর করে আছে উপনিবেশিক আইন-কানুন - এমন বাস্তবতায় বিজয়ের ৪৯তম পর্ব আমরা ‘উদযাপন’ করছি। এই জীবন আর ‘যাপন’ করা হয়ে উঠলো না, কেবল ক্ষণিকের ‘উদযাপনে’ই সীমিত রয়ে গেলো।

Wednesday, September 2, 2020

Stop Genocide: a demand to stop brutality and injustice




ZAHIR Raihan, one of the most leading filmmakers of Bangladesh, has actively participated in almost all the movements during the Pakistan period. From the Language Movement to the Liberation War, his involvement was multidimensional. His involvement with all those movements played a vital role in the characterisation of his works and had helped in portraying the mass awakening of his time in all his films, stories, and novels.

Wednesday, July 15, 2020

একাত্তরের ‘দেশ’: মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তান আন্দোলন এবং কিছু খুচরা আলাপ


অফিসের কাজের জন্যই ১৯৭১ সালে প্রকাশিত ‘দেশ’ পত্রিকার সংখ্যাগুলো উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখছিলাম, গবেষকের দৃষ্টিতে নয়, নিখাদ ‘অমনযোগী’ পাঠক হিসাবে। একাত্তরে ‘দেশ’ -এর প্রধান মনযোগ ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধ ও পূর্ববাংলা’; প্রতিটি সংখ্যার সূচিতে চোখ বুলালেই এই কথার প্রমাণ পাওয়া যাবে। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিবিধ প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, কার্টুন, সাহিত্য-সমালোচনা, কবিতা, গল্প ছাপাচ্ছিল। মূলধারার মূখচেনা বহু লেখক-কবিদের লেখাপত্র নিয়মিত প্রকাশিত হতো: তারা সকলেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন। বিশ্লেষণধর্মী লেখাগুলোতে পূর্ববাংলার সমাজ- সাহিত্য- রাজনীতি- অর্থনীতি- আন্দোলন- মুক্তিযুদ্ধের গতিপথ- শরণার্থী সমস্যা এই সবই স্থান পেয়েছে। সুলিখিত প্রবন্ধ-নিবন্ধগুলো পড়তেও আরামদায়ক।

Friday, June 26, 2020

কাগমারী সম্মেলন: মওলানা ভাসানীর রাজনীতির পুনঃপাঠ


মওলানা ভাসানীকে নিয়ে আলোচনা করা, বিশেষ করে যে ধারার আলোচনায় আমরা অভ্যস্ত, সেই ধারায় তাকে বিচার-বিশ্লেষণ করা খুব মুশকিলের কারণ, বিদ্যামান কোনো ছকে ফেলে তাকে যেমন কাবু করা যায় না, তেমনি ধরাও যায় নাআর পার্টিজান সাহিত্যে মওলানাকে আবদ্ধ করা প্রায় অসম্ভবই বলা যায়আবার, বাংলাদেশের রাজনীতির যত ধারা বর্তমান, সেই ধারাগুলোর ঐতিহাসিক আলোচনা মওলানার উল্লেখ ব্যতীত সম্ভবও নয়যার ফলে, ডান-বাম-মধ্য সকল পন্থীওয়ালার কাছে মওলানা থাকেন, তবে সেটা খণ্ডিত আকারেমওলানার কিছু অংশ লীগ গ্রহণ করে, কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে তারা রীতিমতো গালাগালি শুরু করে দেনআবার, কমিউনিস্টরা মওলানাকে নেন, কিন্তু এই মওলানা নামাজ পড়েন, রোজা রাখেনতাই বিপত্তি ঘটে যায় তাদের বেলাতেওমওলানার নামাজ-রোজা দেখে ধর্মীয় রাজনীতির মানুষেরা আবেগে আপ্লুত হয়ে তার কাছে যায়, কিন্তু যখন জমির মালিকানার বিষয়ক সবক শোনে তখন তারাও ধরা পড়ে যায়পন্থীওয়ালাদে বাইরে জনসাধারণের ভেতর আরেক মওলানার অস্তিত্বও খোঁজে পাওয়া যায়, যিনি পীর, যিনি সবকিছু উজাড় করে দিয়ে সবাইকে ভালোবাসেনখণ্ডিত এই মওলানাকে কেউ কেউ আসমানে তুলে ফেলেন, আবার কেউ কেউ মিশিয়ে দিতে চান মাটির সাথেতবে মওলানার রাজনীতির রাজনৈতিক তাৎপর্য আমাদের আলোচনার টেবিলে খুব একটা আসে না

Monday, December 2, 2019

জেনোসাইড ও জেনোসাইড ডিনায়েল: প্রাথমিক আলাপ-সালাপ


সংজ্ঞার খোঁজে
জেনোসাইড শব্দের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নতুন, পোলিশ আইনজীবী রাফায়েল লেমকিন এই শব্দ প্রথবারের মতো ১৯৪৪ সালে ব্যবহার করেন।[1] এই শব্দের জন্মের পূর্বেই পৃথিবী অসংখ্যবার এই অপরাধ দেখে ফেলে। তাই, লিও কুপার বলেছিলেন যে, শব্দ নতুন হলেও অপরাধ পুরাতন। প্রাচীনকালের মহাকাব্য বা বিভিন্ন ধর্মের ইতিহাস খুজলেও জেনোসাইডের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া যায়, তবে আধুনিক কালে এসে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের প্রাক্কালে এই অপরাধের নতুন মাত্রা সংযোজন হয়েছে। মাত্রা ও তীব্রতার নতুনত্ব এত বেশি যে, অনেক সমাজবিজ্ঞানী জেনোসাইডকে ‘মডার্নিজম’ ও ‘রাষ্ট্রে’র সাথে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করে থাকেন। মানে আধুনিক যুগের জেনোসাইডের সাথে পূর্বের জেনোসাইডের মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। ইউরোপে নাৎসিবাদের হালচাল দেখে উইনস্টন চার্চিল একে বলেছিলেন ‘We are in the presence of a crime without a name!’[2] তাই ‘নামহীন এই অপরাধে’র নাম কি হবে সে সময় প্রশ্নটা জোরেশোরেই আলোচনায় চলে আসে। রাফায়েল লেমকিনের Axis Rule in Occupied Europe বইটা প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালের নভেম্বরে। সেখানেই তিনি ‘জেনোসাইড’ শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন, এবং পরবর্তীতে এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়।

Tuesday, January 22, 2019

গণহত্যা অস্বীকার গণহত্যারই অংশ


গবেষকদের কাছে ম্যাসাকার, গণহত্যা, পলিটিসাইড শব্দগুলো মূলত ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। তাই স্বাভাবিকভাবে একটা প্রশ্ন চলে আসে, একাত্তরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক এই হত্যাযজ্ঞকে কি তাহলেগণহত্যাবা Genocide বলা যায়? পাকিস্তানীদের আক্রমণে প্রচুর সংখ্যক বাঙালি প্রাণ হারিয়েছে বটে তবে সেটাগণহত্যানয়! তখন যুদ্ধ চলছিল দেশব্যাপী, যুদ্ধের সময় এমন প্রাণহানি হবেই! যারা একাত্তরের গণহত্যাকে স্বীকার করতে চান না তাদের যুক্তিগুলো অনেকটা এ ধরণের। এই যুক্তিকে ঘিরেই মূল আলোচনা। বিশেষজ্ঞরা গণহত্যার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে প্রচুর একাডেমিক আলোচনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন পাঁচ ধাপে সংঘটিত হয়, কেউবা আট ধাপের কথা বলেছেন, আবার কেউ দশ ধাপের কথাও বলেছেন। তবে, সবার মূল সুর আসলে একই।

Sunday, April 22, 2018

জহির রায়হানের খোঁজে: আলমগীর কবিরের চোখে





ব্যক্তিকে খুঁজতে গেলে ব্যক্তির স্বীয় প্রতিভাকে যেমন মূল্য দিতে হয় তেমনি সেই প্রতিভার উৎস এবং বিকাশের কারণ তালাশ করতে হয়ে সমাজের মধ্যে, যে সমাজে ব্যক্তি তাঁর দিনযাপন করছেন। জহির রায়হানের প্রতিভা এবং তাঁর কালের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে অনেক আলাপ হয়েছে, এই দিকে আমি যাবও না। বরং, ‘মানুষজহির রায়হান কেমন ছিলেন, সেটা দেখব তাঁর সহযোদ্ধা ও সহকর্মী - চলচ্চিত্র জগতে বাংলাদেশের আরেক দিকপাল - আলমগীর কবিরের বয়ানে ও দৃষ্টিতে।

Friday, February 2, 2018

গণহত্যা, প্রোপ্যাগান্ডা এবং দৈনিক সংগ্রাম

       


ভূমিকা

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দশক থেকে শেষ দশক পর্যন্ত - আর্মেনিয়া থেকে শুরু করে নাৎসি জার্মানি, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ), বসনিয়া, কম্বোডিয়া হয়ে রুয়ান্ডা পর্যন্ত - পৃথিবী এত বেশী সিস্টেমেটিক হত্যাযজ্ঞ দেখেছে এবং এত অধিক সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে যে গত শতাব্দীকে রক্তাক্ত শতাব্দীবললে অত্যুক্তি হবে না। শতাব্দীর মাঝামাঝিতে ‘genocide’ বলতে একটা নতুন শব্দ তাই প্রবর্তন করতে হয়। এই গণহত্যা কখনো হুট-হাট করে ঘটে যাওয়া কোন দুর্ঘটনা নয়, বরং এটা সবসময়ই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল হয়ে থাকে। কোন একক প্রভাবকের দ্বারা কখনোই এটা প্রভাবিত হয় না, একটি সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামোগুলোও বেশ প্রভাব রাখে এতে। গণহত্যা চলাকালীন সময়ে হত্যাযজ্ঞে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, গণহত্যার তীব্রতা বাড়াতে এবং গণহত্যাকে বৈধতা দিতে আক্রমণকারীর প্রয়োজন পড়ে ব্যাপক প্রোপ্যাগান্ডার। এই প্রোপ্যাগান্ডার ধরণ এবং মাত্রা সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তবুও, তাদের মধ্যে কতক সাধারণ মিল লক্ষ্য করা যায় সবসময়। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রগতির সাথে সাথে গণহত্যা এবং তাতে প্রোপ্যাগান্ডার ব্যবহারেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের সংগঠিত গণহত্যায় পাকিস্তানিদের সহযোগী গোষ্ঠীর মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামএর অবদান কেমন ছিল এবং গণহত্যার তীব্রতা বাড়াতে তাদের ভূমিকা কতটুকু ছিল, তাই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। শুরুতেই, তাইসংক্ষেপে গণহত্যা এবং প্রোপ্যাগান্ডা বিষয়ে কিছু আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে, উদাহরণস্বরূপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং রুয়ান্ডার ঘটনার দিকে আলোকপাত করা হয়েছে। 

Sunday, January 21, 2018

জহির রায়হান: নিখোঁজ ও অপেক্ষার হাজার বছর

            

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও কথাসাহিত্যিক জহির রায়হান মিরপুরে তাঁর বড়দা, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে আসেন নি। তাঁর এই ফিরে না আসা তখন থেকেই জন্ম দেয় বিভিন্ন রহস্য ও তর্ক-বিতর্কের। তাই, দেখা যায় জহির রায়হান নিহতহয়েছেন না বলে আমরা বলতে থাকি তিনি নিখোঁজহয়েছেন। যেহেতু তিনি নিহত হয়েছেন বাহাত্তরের জানুয়ারিতে, কিংবা কারো কারো মতে হারিয়ে গেছেন, তাই কেউ কেউ তাঁর মৃত্যুকে মুক্তিযুদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখাতে থাকেন এবং এর কারণে, এরশাদ সরকার ফতোয়া দেয়, তাকে মুক্তিযুদ্ধের শহিদও বলা যাবে না। তবে রহস্য ও বিতর্কের ডালপালা ছড়ায় অন্য কারণে। মূলত যে প্রশ্নকে ঘিরে বিতর্ক চলতে থাকে তা হচ্ছে, জহির রায়হানকে কারা মারল, কিংবা কাদের হাতে জহির রায়হান মারা গেলেন, কিংবা কারা জহির রায়হানকে গুম করলো। এই প্রশ্নগুলোর জবাবে তখন অধিকাংশই তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলেন। সেটারও যথেষ্ট কারণ ছিল।

১৯৭১: নারীর প্রতি সহিংসতা




এটা আসলে এঞ্জেলা দেবনাথের ‘Bangladesh Genocide: Plight of Women’ শিরোনামের গবেষণামূলক প্রবন্ধের অনুবাদ। অনুবাদ না বলে রূপান্তর  বলাই শ্রেয় হবে। মূলত এটা গবেষণা পেপার, কিন্তু দাড় করানো হয়েছে সাধারণ প্রবন্ধ আকারেই। লেখায় ব্যবহৃত পাদটীকাগুলো মূল লেখকের নয়, অনুবাদকের। উল্লেখ্য, স্যামুয়েল টোটেনের সম্পাদনায় 'Plight and Fate of Women During and Following Genocide' নামে যে বই প্রকাশিত হয়, তার তৃতীয় অধ্যায় ছিল বাংলাদেশ বিষয়ক এই আর্টিকেলটি। 

একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের স্বরূপ: কেন এবং কারা জড়িত?




‘There has been no major revolution in modern history without intellectuals; conversely there has been no major counterrevolutionary movement without intellectuals. Intellectuals have been the fathers and mothers of movements, and of course sons and daughters, even nephews and nieces’. - EDWARD W. SAID