মওলানা ভাসানীকে নিয়ে যারা আলাপ করেছেন তারা প্রায় সকলেই বলেছেন, বা সরাসরি না বললেও তাদের কথাবার্তা থেকে বোঝা যায় যে, ভাসানীর রাজনীতিকে কোনো একটা খোপে ধরতে পারা কঠিন। প্রায় সকলেই চেষ্টা করেছেন, স্বাভাবিকভাবেই, কোনো দলীয় বা কোনো একটি মতাদর্শিক খোপে ফেলে তাঁর রাজনীতিকে বিচার-বিশ্লেষণ করার। তাঁর ব্যর্থতাকে কেউ কেউ সরাসরি কমিউনিস্টদের ব্যর্থতারই একটা আলামত হিসেবে পাঠ করেছেন[1], কেউবা তাঁর মধ্যে ‘এনার্কিস্ট হওয়া’র[2] আলামত পেয়েছিলেন; আর তাঁর ধর্মীয় অরিয়েন্টেশন তো এখনো বহুল আলোচিত বিষয়। বর্তমানে অনেক বিশ্লেষক ও তাত্ত্বিক ভাসানীর রাজনীতি ও ধর্মের ভেতর একটা যোগসূত্র হিসেবে মুক্তিমুখিন ধর্মতত্ত্বের কথা বলছেন।[3] এই আলাপ চলমান, দৃঢ় তত্ত্বীয় পাটাতনে এখনো দাড়ায়নি। অন্যদিকে ধর্মের সাথে এমন নিবিড় যোগসূত্র থাকার কারণে তাতে সামন্তবাদ-প্রতিক্রিয়াশীলতার ছায়া দেখনেওয়ালা লোকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাঁর সম্পর্কে এতসব অস্পষ্ট আলাপচারিতা আরেকটা বিষয় হাজির করে: দক্ষিণ এশিয়াতে এতো বৈচিত্র্যময় নেতা বোধহয় খুব কম এসেছিলেন।
