Showing posts with label এনার্কিজম. Show all posts
Showing posts with label এনার্কিজম. Show all posts

Sunday, March 20, 2022

হাওয়ার্ড জিনের ‘এমা’: এক আজন্ম-বিদ্রোহী নারীর প্রতিচ্ছবি



সংক্ষেপে এমা গোল্ডম্যানকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য বলা যায়, তিনি গত শতকের একজন এনার্কিস্ট রাজনৈতিক এক্টিভিস্ট ও লেখক। কিন্তু এতে তাঁর বিদ্রোহী, দুরন্ত ও স্বাধীনতাকাঙ্খী উত্তাল জীবনের নাগাল পাওয়া যাবে না। একটা ছোট ঘটনা এমার উত্তাল জীবন সম্পর্কে পাঠককে হালকা আঁচ দিতে পারে। এমার প্রেমিক ও সঙ্গী আলেক্সান্ডার বার্কম্যান (তিনিও প্রখ্যাত এনার্কিস্ট এক্টিভিস্ট ও চিন্তুক) শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য হেনরি ক্লে ফিক নামক এক কর্তাব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা করেন, কিন্তু কেবল আহত করতেই সক্ষম হন। বার্কম্যান গ্রেফতার হোন, ২২ বছরের জন্য জেল হয়। জেলে হয়তোবা তাকে মেরে ফেলা হতে পারে, এমন উদ্যোগের কথা তিনি এমাকে জানান। এমা ও তাঁর বন্ধুরা মিলে বার্কম্যানকে জেল থেকে বের করে আনার এক অকল্পনীয় ও অবাস্তব উদ্যোগ নেন। জেলখানার খুব নিকটে একটি বাড়ি ভাড়া করেন তারা, সেখান থেকে একটা টানেল খোড়া শুরু করেন। উদ্দেশ্য একেবারে জেলের উঠান পর্যন্ত খনন করবেন। যখন তারা গর্ত খোঁড়ার কাজ করতেন তখন একজন পিয়ানো বাজাতেন, যেন কর্তৃপক্ষ টের না পায়। কিন্তু কপাল খারাপ। একদম শেষ প্রান্তে কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে যায়। ফলে এমার ‘অবাস্তব’ এই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয় না।

Monday, June 21, 2021

বৈপ্লবিক মূলমন্ত্র।। মিখাইল বাকুনিন

 

সম্পাদকীয় মন্তব্য: নিচের রচনাটি রুশ বিপ্লবী মিখাইল বাকুনিনের Revolutionary Catechism এর অনুবাদ। বাকুনিনের চিন্তাভাবনায় বিভিন্ন মুক্তিমুখীন প্রবণতা সময়ে সময়ে দিক বদল করলেও ১৮৬৪-১৮৬৭ সালের দিকে তার নৈরাজ্যবাদী ভাবনা একটা চূড়ান্ত রূপ নেয়। বাকুনিন রচনা সংকলনের সম্পাদক ও অনুবাদক স্যাম ডলগফ মনে করেন, ১৮৬৬ থেকে বাকুনিন নৈরাজ্যবাদী ধ্যান-ধারণার জগতে প্রবেশ করেন। এই সময়েই বিপ্লবী জাতীয়তাবাদ থেকে বিপ্লবী নৈরাজ্যবাদের দিকে তার রূপান্তর ঘটে। ১৮৬৫-৬৬ সালের দিকে তার তিনটা রচনা প্রকাশিত হয়: The International Family, Revolutionary Catechism, এবং National Catechism; এগুলোতেই তিনি তার মৌলিক ভাবনাগুলো তুলে ধরেন। এইচ.ই.কামিন্সকর মতে, এগুলো পুরো নৈরাজ্যবাদী আন্দোলনের স্পিরিচুয়াল ফাউন্ডেশন হিসাবে কাজ করেছে। সময়ের সাথে তার এই ধারণাগুলো আরো বিবর্তিত হয়েছে, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের দিকে গিয়েছে। Revolutionary Catechism লেখা হয় ১৮৬৬ সালে। স্যাম ডলগফ অনূদিত ও সম্পাদিত Bakunin on Anarchy গ্রন্থে রচনাটি সংকলিত হয়েছে। বইটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়। নিচের সংস্করণটি দি এনার্কিস্ট লাইব্রেরি থেকে নেয়া হয়েছে। বিদ্যমান কোনো সংস্করণে পুরো রচনা পাওয়া যায়নি, কিছু কিছু অংশ হারিয়ে গিয়েছে।

Wednesday, January 20, 2021

ন্যাশনাল ক্যাটেকিজম।। মিখাইল বাকুনিন



১৮৪৮ সালের মহাবিদ্রোহের পর শ্রমজীবী মানুষের বৈপ্লবিক সংগঠন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে। পরবর্তী দেড় দশকজুড়ে বিপ্লবীদের পিছে ফেউয়ের মতো লেগে ছিল ইউরোপের সরকারগুলো। বিপ্লব তৎপরতা থেমে থাকেনি। নানাস্থানে গোপনে গড়ে উঠতে থাকে বিভিন্ন রকমের বিপ্লবী সংগঠন।১৮৪৮ সালের মহাবিদ্রোহের সময় রুশ বিপ্লবী মিখাইল বাকুনিন মুক্তিবাদী ছিলেন। স্বাধীনতার প্রাণস্পৃহা ছিল তার বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের মর্মে। বাকুনিন রচনা সংকলনের সম্পাদক ও অনুবাদক স্যাম ডলগফ মনে করেন, ১৮৬৬ থেকে রুশ বিপ্লবী বাকুনিন নৈরাজ্যবাদী ধ্যান-ধারণার জগতে প্রবেশ করেন। National Catechism বাকুনিনের নৈরাজ্যবাদ আলিঙ্গনের স্মারক রচনা। বিভিন্ন দেশে গড়ে ওঠা আন্দোলনের জন্য মৌলিক সংকল্প’র ধারণায়ন করেন। কেন্দ্রীভূত আমলাতান্ত্রিক ও সামরিক রাষ্ট্রকে একটা ফেডারেল সংগঠন দ্বারা প্রতিস্থাপনের সংকল্প এতে পষ্ট হয়। ফেডারেল সংগঠনের মৌলিক নীতিই হল: উপর থেকে নিচে নয়, নিচ থেকে উপরে। সংগঠন প্রশ্নে বাকুনিনের ফেডারেল পদ্ধতিই পরবর্তীকালে প্যারী কমিউনেরও সংগঠন প্রণালী ছিল। একই সঙ্গে তিনি জোর দেন সামাজিক বিপ্লবে। National Catechism লেখা হয় ১৮৬৬ সালে। স্যাম ডলগফ অনূদিত ও সম্পাদিত Bakunin on Anarchy গ্রন্থে রচনাটি সংকলিত হয়েছে। বইটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।- অরাজ সম্পাদক

Sunday, June 14, 2020

স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ: নৈরাজ্যবাদ প্রসঙ্গে হাওয়ার্ড জিন

 

অনুবাদকের কৈফিয়ত

হাওয়ার্ড জিন প্রখ্যাত আমেরিকান ইতিহাসবিদ, চিন্তক ও বুদ্ধিজীবী। প্রায় বিশের অধিক বই-পুস্তক লিখেছেন, পাশাপাশি নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যুদ্ধ-বিরোধী আন্দোলন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ইতিহাস নিয়ে বিস্তর লেখালেখি করেছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, আলাপ-আলোচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত ও প্রভাবশালী ‘A People's History of the United States’ গ্রন্থ সম্পর্কে প্রায় সকলেই জানেন, সিনেমা থেকে শুরু করে বিদ্বৎসমাজ সবখানেই এই গ্রন্থ বহুরূপে উল্লেখিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন এয়ারফোর্সে যোগদান করেছিলেন, এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝে গিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের দোহাই দিয়ে সাধারণ জনগণের ত্যাগ-তিতিক্ষাকে ব্যবহার করে গুটিকয়েক ফায়দা হাসিল করেন। আজীবন বিভিন্ন ধরণের যুদ্ধ-বিরোধী আন্দোলন ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে গিয়েছেন।

Sunday, November 17, 2019

মানুষ, সমাজ এবং স্বাধীনতা: মিখাইল বাকুনিন



অনুবাদকের ভূমিকা:
মিখাইল বাকুনিনের জন্ম রাশিয়ায়, ১৮১৪ সালে। বাকুনিন ছিলেন একজন এনার্কিস্ট, একজন দৃঢ়চেতা বিপ্লবী। বিপ্লবে তাঁর ছিল পগাঢ় আস্থা, বিশ্বাস করতেন দোস্তালি-মার্কা কোনো নীতি দিয়ে বিদ্যমান শ্রেণি সংঘাতের প্রশ্নের সমাধান হবে না। এই বিশ্বাস থেকেই তাঁর জীবনের বিপুল কর্মশক্তির সমস্তটাই নিয়োজিত করেছিলেন বিপ্লবের কাজে। রুডলফ রকার এক মন্তুব্যে বাকুনিনকে আধুনিক অ্যানার্কিস্ট আন্দোলনের স্রষ্টা বলে অভিহিত করেছিলেন। সকল অ্যানার্কিস্টের মতো তারও ছিল ‘সকল জবরদস্তিমূলক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান থেকে মুক্ত একটা সমাজের আকাঙ্ক্ষা’। সমাজকে তাঁরা দিয়েছেন সর্বোচ্চ প্রাধান্য। নিচের প্রবন্ধটি বাকুনিন লিখেছিলেন ১৮৭১ সালে। সমাজের মধ্যে ব্যক্তির স্বাধীনতার স্বরূপ কি হবে তা-ই মূল বিষয়। বাকুনিন লিবারেল তাত্ত্বিকদের যুক্তি খন্ডনের মাধ্যমে এগিয়েছেন। লিবারেল তাত্বিকরা ব্যক্তি স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে ব্যক্তিকে সমাজের পূর্ববর্তী ধরে নিয়েছিলেন, আর, বাকুনিন বলছেন যে, ব্যক্তি মূলত সমাজেরই সৃষ্টি। বাকুনিনের মতে, এই চিন্তাধারাই লিবারেল তাত্ত্বিকদের দিনশেষে রাষ্ট্রের রক্ষক বানিয়ে দেয়। রাষ্ট্রের খবরদারি সীমিত রাখার ব্যাপারে লিবারেলরা খানিকটা অ্যানার্কিস্টদের পাশে অবস্থান নিলেও, বাকুনিনসহ অন্য অ্যানার্কিস্টরা  এটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁরা চান সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার সকল প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি। তাই, লিবারেলরা যখন বলেন, সেই সরকারই ভালো যে সরকার শাসন করে কম, বিপরীতে অ্যানার্কিস্টরা বলেন, সেই সরকারই ভালো যে সরকার কোনো শাসনই করেনা। 

Saturday, October 20, 2018

স্বাধীনতা কী? - জন বেভেরলি রবিনসন


[শুরুর কথা: এই প্রবন্ধের লেখক, জন বেভেরলি রবিনসন, সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানি না; দেড় পৃষ্ঠার এই প্রবন্ধ ছাড়া তাঁর আর কিছু পড়া হয় নাই। ডিজিটাল দুনিয়ার কল্যাণে আপাতত যদ্দুর জানতে পেরেছি তা হলো রবিনসনের জন্ম ১৮৫৩ সালে এবং মারা যান ১৯২৩ সালে। সাথে এটাও জানতে পেরেছি মতাদর্শের দিক থেকে লেখক একজন  individualist anarchist; তাঁর পরিচয় হিসেবে আরও বলা আছে যে তিনি একজন প্রকাশক, অনুবাদক এবং আর্কিটেক্টও বটে। স্বাধীনতা কী(What is freedom?) এই প্রশ্নের চমকপ্রদ ও সহজ-সরল আলাপই এই প্রবন্ধ অনুবাদে আগ্রহী করে তোলে। লেখক প্রবন্ধটা লিখেছিলেন ১৮৯৪ সালে।