Showing posts with label রামপাল. Show all posts
Showing posts with label রামপাল. Show all posts

Thursday, October 24, 2019

কবীরের 'সদগুরু' ও এই জমানার 'বুদ্ধিজীবীর দায়ভার'


মধ্যযুগের কবি-সাধক কবীর তার কবিতায় ‘সদগুরু’,‘সাধু’, ‘সত্যগুরু’র কিছু চরিত্রের কথা বলেন। যিনি ‘এই নয়নে অপরূপের রূপ দেখাইতে পারেন, যিনি প্রাণায়াম, পূজা, আচার হইতে স্বতন্ত্র সহজ সমাধি শিখাইতে পারেন’ তিনিই সাধু বা সদগুরু। এই সাধু ‘দ্বার বন্ধ করান না, শ্বাস রোধ করান না, বিশ্বসংসার ত্যাগ করান না’। আরো এগিয়ে গিয়ে বলেন, তার (কবীরের) প্রাণ সেই সত্যগুরুকে চায় ‘যিনি সত্য প্রেমের প্যালা ভরিয়া’ নিজে যেমন পান করেন, তেমনি অন্যকেও পান করেন। 

Saturday, April 14, 2018

সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন ও সরকারের ফ্যাসিবাদি আচরণ

লেখক: সহুল আহমদ ও সারোয়ার তুষার


জর্জ অরওয়েল ১৯৪৪ সালে 'ফ্যাসিবাদ কী' নামে ছোট্ট এক প্রবন্ধে ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞা নির্ধারন করতে গিয়ে দেখিয়েছিলেন, রক্ষণশীল, কমিউনিস্ট, সোশালিস্ট, ক্যাথলিক, জাতীয়তাবাদী সকলেই কোন না কোনভাবে একে অপরকে ফ্যাসিস্ট বলে গালি দিচ্ছেন; তারা সবাই ফ্যাসিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছিলেন, but not by the same people। মূলত, ফ্যাসিবাদের কোন নির্দিষ্ট প্যাটার্ন নেই, একেক সমাজে একেক দেশে একেক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একেক রূপ ধারন করে । একনায়কত্বের বেশেও ফ্যাসিবাদ যেমন ঢুকতে পারে তেমনি সেটা গণতান্ত্রিক মুখোশেও ঢুকতে পারে। ফ্যাসিবাদ যেমন দমন-পীড়ন করে, তেমনি প্রোপ্যাগান্ডার মাধ্যমে জনগণকে নিজের দিকে টেনে আনার নীতিও মেনে চলে এবং অর্ধসত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণে জনগণকে কৌশলে নিজেদের দিকে নিয়ে আসাটাকেই বেশি ব্যবহার করা হয় সাধারণত। তাই, ফ্যাসিবাদ একটি কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকাঠামো কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনকে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণের মতবাদ হওয়া সত্ত্বেও সামরিক স্বৈরতন্ত্রের সাথে এর কিছু পার্থক্য লক্ষ করা যায় - সামরিক স্বৈরতন্ত্রের কোন জনসমর্থন থাকেনা, অপরদিকে ফ্যাসিবাদের বৈধতা চেতন কিংবা অবচেতনভাবে জনগণের কাছ থেকেই আসে। ফ্যাসিবাদকে চিহ্নিত করার জন্যে নির্দিষ্ট কোন চারিত্রিক লক্ষণ না থাকলেও জাতীয়তাবাদের উগ্রতা, ধর্মের ব্যবহার, একটা কল্পিত শত্রু তৈরি করা ও প্রোপাগান্ডার চূড়ান্ত রকমের ব্যবহার সহ কিছু কমন বৈশিষ্টের দেখা মেলে। এ প্রসঙ্গে বামতাত্ত্বিক শিবদাষ ঘোষের মন্তব্য উল্লেখযোগ্য, ‘একদিকে উগ্র জাতীয়তাবাদের বিষে মানুষকে ফ্যানাটিক (অতিশয় উগ্র) করা, অন্যদিকে পুরনো ঐতিহ্যবাদ এবং ভাসাভাসা সমাজতন্ত্র, বিপ্লব আর প্রগতির স্লোগান-এই তিনটিকে যদি একত্রে মেলানো যায় তাহলেই একটা দেশে ফ্যাসিবাদের জমি তৈরি হয়’। মূলত যেকোন ফ্যাসিবাদই কোন না কোন আশ্বাসে পরিচালিত, তা সে কোন রাষ্ট্রকে 'গ্রেইট' কিংবা 'শাইনিং' কিংবা 'ডিজিটাল' বানানোর নামেই হোক।