Showing posts with label গণহত্যা. Show all posts
Showing posts with label গণহত্যা. Show all posts

Monday, June 21, 2021

পাহাড় : পর্যটন এবং জাতীয়তাবাদী ‘উন্নয়ন’ এর আড়ালে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা

 


বান্দরবানে পাঁচ তারকা হোটেল তৈরি হওয়ার তথ্য প্রথম চোখে পড়ে সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি সংবাদে। সেখানে হোটেল তৈরির তথ্য প্রদানের পাশপাশি আরো কয়েকটা তথ্য প্রদান করা হয়েছিল। যেমন, মূল হোটেল বিল্ডিংয়ের সাথে পর্যটকদের এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে ১২টি পৃথক ভিলা, আধুনিক কেবল-গাড়ি থাকবে, রাইড এবং সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন ধরণের বিনোদনমূলক সুবিধাও থাকবে। এবং এটি ‘বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে’। অর্থাৎ, এই সংবাদই আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে সামনের দিনগুলোতে পর্যটকদের কপালে কি ‘স্বর্গসুখ’ অপেক্ষা করছে!

রোহিঙ্গা জেনোসাইড: আর্তনাদ শোনার কেউ নেই

 

That day felt like the last day of this world, as if the whole world was collapsing. I thought judgment day had arrived.


সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের উপর সবচেয়ে নির্মম জেনোসাইড শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে, ব্যাপকহারে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগ বা বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু হয় একইদিন। কিন্তু এটা ছিল বহু বছর ধরে চলে আসে কাঠামোগত নিপীড়নের চূড়ান্ত বিন্দু। সাধারণত এই জেনোসাইড শুরু হওয়ার অনেক পূর্ব থেকেই রোহিঙ্গাদের বলা হতো দুনিয়ার সবচাইতে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। সম্ভবত ২০১৫-১৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটা আর্টিকেল প্রকাশ করেছিল, সেখানে একজন রোহিঙ্গা নারী বলেছিলেন, হয় দুনিয়া আমাদের সাহায্য করুক, আর না হলে বোমা ফেলে একসাথে মেরে ফেলুক!

Wednesday, September 2, 2020

Stop Genocide: a demand to stop brutality and injustice




ZAHIR Raihan, one of the most leading filmmakers of Bangladesh, has actively participated in almost all the movements during the Pakistan period. From the Language Movement to the Liberation War, his involvement was multidimensional. His involvement with all those movements played a vital role in the characterisation of his works and had helped in portraying the mass awakening of his time in all his films, stories, and novels.

Monday, December 2, 2019

জেনোসাইড ও জেনোসাইড ডিনায়েল: প্রাথমিক আলাপ-সালাপ


সংজ্ঞার খোঁজে
জেনোসাইড শব্দের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নতুন, পোলিশ আইনজীবী রাফায়েল লেমকিন এই শব্দ প্রথবারের মতো ১৯৪৪ সালে ব্যবহার করেন।[1] এই শব্দের জন্মের পূর্বেই পৃথিবী অসংখ্যবার এই অপরাধ দেখে ফেলে। তাই, লিও কুপার বলেছিলেন যে, শব্দ নতুন হলেও অপরাধ পুরাতন। প্রাচীনকালের মহাকাব্য বা বিভিন্ন ধর্মের ইতিহাস খুজলেও জেনোসাইডের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া যায়, তবে আধুনিক কালে এসে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের প্রাক্কালে এই অপরাধের নতুন মাত্রা সংযোজন হয়েছে। মাত্রা ও তীব্রতার নতুনত্ব এত বেশি যে, অনেক সমাজবিজ্ঞানী জেনোসাইডকে ‘মডার্নিজম’ ও ‘রাষ্ট্রে’র সাথে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করে থাকেন। মানে আধুনিক যুগের জেনোসাইডের সাথে পূর্বের জেনোসাইডের মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। ইউরোপে নাৎসিবাদের হালচাল দেখে উইনস্টন চার্চিল একে বলেছিলেন ‘We are in the presence of a crime without a name!’[2] তাই ‘নামহীন এই অপরাধে’র নাম কি হবে সে সময় প্রশ্নটা জোরেশোরেই আলোচনায় চলে আসে। রাফায়েল লেমকিনের Axis Rule in Occupied Europe বইটা প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালের নভেম্বরে। সেখানেই তিনি ‘জেনোসাইড’ শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন, এবং পরবর্তীতে এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়।

Tuesday, January 22, 2019

গণহত্যা অস্বীকার গণহত্যারই অংশ


গবেষকদের কাছে ম্যাসাকার, গণহত্যা, পলিটিসাইড শব্দগুলো মূলত ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। তাই স্বাভাবিকভাবে একটা প্রশ্ন চলে আসে, একাত্তরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক এই হত্যাযজ্ঞকে কি তাহলেগণহত্যাবা Genocide বলা যায়? পাকিস্তানীদের আক্রমণে প্রচুর সংখ্যক বাঙালি প্রাণ হারিয়েছে বটে তবে সেটাগণহত্যানয়! তখন যুদ্ধ চলছিল দেশব্যাপী, যুদ্ধের সময় এমন প্রাণহানি হবেই! যারা একাত্তরের গণহত্যাকে স্বীকার করতে চান না তাদের যুক্তিগুলো অনেকটা এ ধরণের। এই যুক্তিকে ঘিরেই মূল আলোচনা। বিশেষজ্ঞরা গণহত্যার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে প্রচুর একাডেমিক আলোচনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন পাঁচ ধাপে সংঘটিত হয়, কেউবা আট ধাপের কথা বলেছেন, আবার কেউ দশ ধাপের কথাও বলেছেন। তবে, সবার মূল সুর আসলে একই।

Friday, September 21, 2018

আমি একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী বলছি: আমরা ফিরে যেতে চাই

A Rohingya refugee boy desperate for aid cries as he climbs on a truck distributing aid for a local NGO near the Balukali refugee camp in Cox's Bazar, Bangladesh  (Kevin Frayer/Getty Images)

[এই লেখাটা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করা এক রোহিঙ্গার জবানবন্দী। তাঁর নাম নূর ইলিয়াস। তাঁর লেখা থেকে জানা যাচ্ছে যে তিনি শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে আছেন জামতলা ক্যাম্পে। তাঁর কথাগুলো ২৭ আগস্ট গার্ডিয়ান পত্রিকা প্রকাশ করে ‘I am a Rohingya refugee: we will become like animals if we stay in these camps’ শিরোনামে। জবানবন্দীমূলক এই লেখা-জুড়ে আছে তাদের অতীত পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ, বর্তমান অবস্থা, তাদের কষ্টের কথা, তাদের আশার কথা, তাদের আশঙ্কার কথা। তিনি বলছেন, তারা যে কোন মূল্যে মায়ানমারে ফিরতে চান, কিন্তু অবশ্যই সেটা নাগরিকত্ব ও সকল অধিকার সহ।

বিঃ দ্রঃ অনুবাদে মায়ানমারের বিভিন্ন এলাকার নাম বা ক্যাম্পের নামের উচ্চারনে খানিক এদিক-সেদিক হতে পারে, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।]

Tuesday, August 14, 2018

জহির রায়হান: মুক্তির আলো জ্বালাতে চেয়েছিলেন যিনি



জীবন থেকে নেয়াসিনেমা শেষ হয়েছিল মুক্তিনামের এক নবজাতকের জন্মের মধ্য দিয়ে এবং সিনেমার মুক্তির মাত্র এক বছরের মধ্যেই পাকিস্তানিদের কারাগার থেকে আমরাও মুক্তি পেয়েছিলাম; সেটা ছিল বহু ত্যাগের, বহু রক্তের, বহু সংগ্রামের মাধ্যমে প্রাপ্ত মুক্তি। তাই আমরাও সিনেমার নবজাতককে পাকিস্তানের কারাগার থেকে প্রাপ্ত এই মুক্তির সাথে মিলিয়ে দেখতে পছন্দ করি, এবং দেখিও। তবে, আরেকটা প্রশ্নও উত্থাপন করা যায়, সিনেমায় জহির রায়হান যে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কিংবা দেখেছিলেন সেটা কি একাত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল নাকি আরো বড় কিছু ছিল? এবং যদি আরো বড় কোন মুক্তির কথা বলা হয়েই থাকে ইতিহাসের পরবর্তী পর্যায়ে তার কতটা আমরা অর্জন করতে পেরেছি? উত্তরের সন্ধান তাঁর সেই সিনেমার মধ্যেই করা যেতে পারে।

Friday, February 2, 2018

গণহত্যা, প্রোপ্যাগান্ডা এবং দৈনিক সংগ্রাম

       


ভূমিকা

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দশক থেকে শেষ দশক পর্যন্ত - আর্মেনিয়া থেকে শুরু করে নাৎসি জার্মানি, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ), বসনিয়া, কম্বোডিয়া হয়ে রুয়ান্ডা পর্যন্ত - পৃথিবী এত বেশী সিস্টেমেটিক হত্যাযজ্ঞ দেখেছে এবং এত অধিক সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে যে গত শতাব্দীকে রক্তাক্ত শতাব্দীবললে অত্যুক্তি হবে না। শতাব্দীর মাঝামাঝিতে ‘genocide’ বলতে একটা নতুন শব্দ তাই প্রবর্তন করতে হয়। এই গণহত্যা কখনো হুট-হাট করে ঘটে যাওয়া কোন দুর্ঘটনা নয়, বরং এটা সবসময়ই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল হয়ে থাকে। কোন একক প্রভাবকের দ্বারা কখনোই এটা প্রভাবিত হয় না, একটি সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামোগুলোও বেশ প্রভাব রাখে এতে। গণহত্যা চলাকালীন সময়ে হত্যাযজ্ঞে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, গণহত্যার তীব্রতা বাড়াতে এবং গণহত্যাকে বৈধতা দিতে আক্রমণকারীর প্রয়োজন পড়ে ব্যাপক প্রোপ্যাগান্ডার। এই প্রোপ্যাগান্ডার ধরণ এবং মাত্রা সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তবুও, তাদের মধ্যে কতক সাধারণ মিল লক্ষ্য করা যায় সবসময়। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রগতির সাথে সাথে গণহত্যা এবং তাতে প্রোপ্যাগান্ডার ব্যবহারেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের সংগঠিত গণহত্যায় পাকিস্তানিদের সহযোগী গোষ্ঠীর মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামএর অবদান কেমন ছিল এবং গণহত্যার তীব্রতা বাড়াতে তাদের ভূমিকা কতটুকু ছিল, তাই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। শুরুতেই, তাইসংক্ষেপে গণহত্যা এবং প্রোপ্যাগান্ডা বিষয়ে কিছু আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে, উদাহরণস্বরূপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং রুয়ান্ডার ঘটনার দিকে আলোকপাত করা হয়েছে। 

Sunday, January 21, 2018

জহির রায়হান: নিখোঁজ ও অপেক্ষার হাজার বছর

            

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও কথাসাহিত্যিক জহির রায়হান মিরপুরে তাঁর বড়দা, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে আসেন নি। তাঁর এই ফিরে না আসা তখন থেকেই জন্ম দেয় বিভিন্ন রহস্য ও তর্ক-বিতর্কের। তাই, দেখা যায় জহির রায়হান নিহতহয়েছেন না বলে আমরা বলতে থাকি তিনি নিখোঁজহয়েছেন। যেহেতু তিনি নিহত হয়েছেন বাহাত্তরের জানুয়ারিতে, কিংবা কারো কারো মতে হারিয়ে গেছেন, তাই কেউ কেউ তাঁর মৃত্যুকে মুক্তিযুদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখাতে থাকেন এবং এর কারণে, এরশাদ সরকার ফতোয়া দেয়, তাকে মুক্তিযুদ্ধের শহিদও বলা যাবে না। তবে রহস্য ও বিতর্কের ডালপালা ছড়ায় অন্য কারণে। মূলত যে প্রশ্নকে ঘিরে বিতর্ক চলতে থাকে তা হচ্ছে, জহির রায়হানকে কারা মারল, কিংবা কাদের হাতে জহির রায়হান মারা গেলেন, কিংবা কারা জহির রায়হানকে গুম করলো। এই প্রশ্নগুলোর জবাবে তখন অধিকাংশই তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলেন। সেটারও যথেষ্ট কারণ ছিল।

একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের স্বরূপ: কেন এবং কারা জড়িত?




‘There has been no major revolution in modern history without intellectuals; conversely there has been no major counterrevolutionary movement without intellectuals. Intellectuals have been the fathers and mothers of movements, and of course sons and daughters, even nephews and nieces’. - EDWARD W. SAID