ভূমিকা
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দশক থেকে শেষ দশক পর্যন্ত - আর্মেনিয়া থেকে শুরু করে নাৎসি জার্মানি, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ), বসনিয়া, কম্বোডিয়া হয়ে রুয়ান্ডা পর্যন্ত - পৃথিবী এত বেশী সিস্টেমেটিক হত্যাযজ্ঞ দেখেছে এবং এত অধিক সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে যে গত শতাব্দীকে ‘রক্তাক্ত শতাব্দী’ বললে অত্যুক্তি হবে না। শতাব্দীর মাঝামাঝিতে ‘genocide’ বলতে একটা নতুন শব্দ তাই প্রবর্তন করতে হয়। এই গণহত্যা কখনো হুট-হাট করে ঘটে যাওয়া কোন দুর্ঘটনা নয়, বরং এটা সবসময়ই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল হয়ে থাকে। কোন একক প্রভাবকের দ্বারা কখনোই এটা প্রভাবিত হয় না, একটি সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামোগুলোও বেশ প্রভাব রাখে এতে। গণহত্যা চলাকালীন সময়ে হত্যাযজ্ঞে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, গণহত্যার তীব্রতা বাড়াতে এবং গণহত্যাকে বৈধতা দিতে আক্রমণকারীর প্রয়োজন পড়ে ব্যাপক প্রোপ্যাগান্ডার। এই প্রোপ্যাগান্ডার ধরণ এবং মাত্রা সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তবুও, তাদের মধ্যে কতক সাধারণ মিল লক্ষ্য করা যায় সবসময়। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রগতির সাথে সাথে গণহত্যা এবং তাতে প্রোপ্যাগান্ডার ব্যবহারেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের সংগঠিত গণহত্যায় পাকিস্তানিদের সহযোগী গোষ্ঠীর মুখপাত্র ‘দৈনিক সংগ্রাম’ এর অবদান কেমন ছিল এবং গণহত্যার তীব্রতা বাড়াতে তাদের ভূমিকা কতটুকু ছিল, তাই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। শুরুতেই, তাই, সংক্ষেপে গণহত্যা এবং প্রোপ্যাগান্ডা বিষয়ে কিছু আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে, উদাহরণস্বরূপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং রুয়ান্ডার ঘটনার দিকে আলোকপাত করা হয়েছে।