Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Monday, June 21, 2021

বৈপ্লবিক মূলমন্ত্র।। মিখাইল বাকুনিন

 

সম্পাদকীয় মন্তব্য: নিচের রচনাটি রুশ বিপ্লবী মিখাইল বাকুনিনের Revolutionary Catechism এর অনুবাদ। বাকুনিনের চিন্তাভাবনায় বিভিন্ন মুক্তিমুখীন প্রবণতা সময়ে সময়ে দিক বদল করলেও ১৮৬৪-১৮৬৭ সালের দিকে তার নৈরাজ্যবাদী ভাবনা একটা চূড়ান্ত রূপ নেয়। বাকুনিন রচনা সংকলনের সম্পাদক ও অনুবাদক স্যাম ডলগফ মনে করেন, ১৮৬৬ থেকে বাকুনিন নৈরাজ্যবাদী ধ্যান-ধারণার জগতে প্রবেশ করেন। এই সময়েই বিপ্লবী জাতীয়তাবাদ থেকে বিপ্লবী নৈরাজ্যবাদের দিকে তার রূপান্তর ঘটে। ১৮৬৫-৬৬ সালের দিকে তার তিনটা রচনা প্রকাশিত হয়: The International Family, Revolutionary Catechism, এবং National Catechism; এগুলোতেই তিনি তার মৌলিক ভাবনাগুলো তুলে ধরেন। এইচ.ই.কামিন্সকর মতে, এগুলো পুরো নৈরাজ্যবাদী আন্দোলনের স্পিরিচুয়াল ফাউন্ডেশন হিসাবে কাজ করেছে। সময়ের সাথে তার এই ধারণাগুলো আরো বিবর্তিত হয়েছে, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের দিকে গিয়েছে। Revolutionary Catechism লেখা হয় ১৮৬৬ সালে। স্যাম ডলগফ অনূদিত ও সম্পাদিত Bakunin on Anarchy গ্রন্থে রচনাটি সংকলিত হয়েছে। বইটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়। নিচের সংস্করণটি দি এনার্কিস্ট লাইব্রেরি থেকে নেয়া হয়েছে। বিদ্যমান কোনো সংস্করণে পুরো রচনা পাওয়া যায়নি, কিছু কিছু অংশ হারিয়ে গিয়েছে।

পুলিশের ‘ভাব’ বনাম পুলিশের ‘মূর্তি’



বাংলাদেশের পুলিশের ‘ভাবমূর্তি’ আবারো মারাত্মক ‘সঙ্কটে’ পড়েছে, তবে সেটা তাদের কর্মকাণ্ডে নয় বরঞ্চ কর্মকাণ্ডের চিত্রায়নের কারণে। অর্থাৎ পুলিশের কর্মকাণ্ডে তাদের ‘ভাবমূর্তি’র খুব একটা ক্ষতি হচ্ছে না, ক্ষতি হচ্ছে কেবল সেই ‘কাণ্ড’টাকে উপস্থাপন করলে। ফলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক যখন নবাব এলএলবি সিনেমার পরিচালক গ্রেফতার নিয়ে মন্তব্য করেন তখন তার বিষয়বস্তু পুলিশের ‘কাণ্ড’ থাকে না,  বরঞ্চ ‘কাণ্ডসমূহ’ তার কাছে ‘দুই-চারজনের নৈতিকতার স্খলন’ হিসাবে হাজির হয়। তার আর্জি [বা বলতে পারেন হুকুম] হচ্ছে, পুলিশের অবদানকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

পাহাড় : পর্যটন এবং জাতীয়তাবাদী ‘উন্নয়ন’ এর আড়ালে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা

 


বান্দরবানে পাঁচ তারকা হোটেল তৈরি হওয়ার তথ্য প্রথম চোখে পড়ে সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি সংবাদে। সেখানে হোটেল তৈরির তথ্য প্রদানের পাশপাশি আরো কয়েকটা তথ্য প্রদান করা হয়েছিল। যেমন, মূল হোটেল বিল্ডিংয়ের সাথে পর্যটকদের এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে ১২টি পৃথক ভিলা, আধুনিক কেবল-গাড়ি থাকবে, রাইড এবং সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন ধরণের বিনোদনমূলক সুবিধাও থাকবে। এবং এটি ‘বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে’। অর্থাৎ, এই সংবাদই আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে সামনের দিনগুলোতে পর্যটকদের কপালে কি ‘স্বর্গসুখ’ অপেক্ষা করছে!

বিদ্যমান ক্ষমতাতন্ত্রই জন্ম দিচ্ছে খুনি ধর্ষক

 


একটি নিষ্ঠুর ক্ষমতাতন্ত্র, মাফিয়াতন্ত্র ও গুন্ডাতন্ত্র নিয়মিত মাফিয়া-গুন্ডা-খুনি-ধর্ষক তৈরি করে। পালে ও পুষে। বাংলাদেশ যে বাস্তবতা হাজির হয়েছে এই তন্ত্রসমূহের কলকব্জা বোঝার জন্য সমাজবিজ্ঞানী বা অপরাধবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না; একটু কান্ডজ্ঞান রেখে এবং দলীয়-চশমাকে খুলে রেখে প্রতিবেশ-পরিবেশের তাকালেই সেটা স্পষ্ট হওয়ার কথা। 

বিশ্ববিদ্যালয় ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা: সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

 


বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এতোটা খতরনাক অবস্থানে আগে কখনো পড়েছিল কি না জানা নেই; তবে এটা নিশ্চিত যে, অন্তত বিশ্ববিদ্যালয় তথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে এই স্বাধীনতার এমন ‘অধীনতা’ পূর্বে কখনো ঘটেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান কাঠামোতে জ্ঞানজাগতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার কোনো অস্তিত্ব নেই- এ কথাগুলো তাত্ত্বিকভাবে বহুদিন ধরে অনেকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু গত কয়েক দিনে এর বাস্তবিক ও প্রায়োগিক কদর্য রূপ দেখার সৌভাগ্য ও দূর্ভাগ্য আমাদের হয়ে গেলো।

রোহিঙ্গা জেনোসাইড: আর্তনাদ শোনার কেউ নেই

 

That day felt like the last day of this world, as if the whole world was collapsing. I thought judgment day had arrived.


সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের উপর সবচেয়ে নির্মম জেনোসাইড শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে, ব্যাপকহারে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগ বা বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু হয় একইদিন। কিন্তু এটা ছিল বহু বছর ধরে চলে আসে কাঠামোগত নিপীড়নের চূড়ান্ত বিন্দু। সাধারণত এই জেনোসাইড শুরু হওয়ার অনেক পূর্ব থেকেই রোহিঙ্গাদের বলা হতো দুনিয়ার সবচাইতে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। সম্ভবত ২০১৫-১৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটা আর্টিকেল প্রকাশ করেছিল, সেখানে একজন রোহিঙ্গা নারী বলেছিলেন, হয় দুনিয়া আমাদের সাহায্য করুক, আর না হলে বোমা ফেলে একসাথে মেরে ফেলুক!

ক্রসফায়ার, সম্মতি উৎপাদন এবং নিরবচ্ছিন্ন ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনার কথকতা

 


'আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না' - সিনেমান্তে এমন ডায়লগের দিন ফুরিয়েছে বহু আগে। বর্তমানে তামিল সিনেমা ভায়া হিন্দি সিনেমা হয়ে বাংলা সিনেমা পর্যন্ত আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতাই বেশি, মানে বর্তমানে যাকে কেতাবি ভাষায় 'বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড' বলি সেটার প্রবণতাই বেশি। পূর্বে নায়ক ধুন্ধুরমার মারামারি করার পরও ভিলেনের 'জান'টা নিতো না, কদাচিৎ নিলেও অধিকাংশ সময় আত্মীয়-স্বজন-প্রেমিকার অনুরোধে ভিলেনকে আইনের কাছে সোপার্দ করা হতো। যদিও আমরা জানতাম না পুলিশ সেই ‘ভিলেন’কে নিয়ে কি করবে, তবু নিজেদের সান্তনা দিতে পারতাম, যাক অন্তত ‘বে-আইনি’ প্রক্রিয়ায় কাউকে মারা হলো না। বর্তমানে সিনেমায় এমন পরিস্থিতি হাজির করা হয় যে, দর্শকই সেখানে মনেপ্রাণে দোয়া করতে বাধ্য হন যেন ভিলেনকে গুলি করে মারা হয়, বা কোনো আইনি হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি শাস্তি দেয়া হয়। শাস্তিদাতা পুলিশ হতে পারেন, আবার অ-পুলিশ নায়কও হতে পারেন। দর্শক হিসাবে আমরা যে আতঙ্ক ও উদ্বেগে থাকি ভিলেনের এমন নৃশংস মৃত্যুর মাধ্যমে সেটা থেকে রেহাই পাই। খুশি হই। অবশ্য, বর্তমানে অনেক স্থানেই ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া’ কেন্দ্রিক সিনেমা নির্মাণের সমালোচনা- আত্মসমালোচনা উঠছে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে পুলিশ হেফাজতে পিতা-মৃত্যুর ঘটনার পর ‘সিংহাম’ খ্যাত পরিচালক সিনেমায় ‘পুলিশি নির্যাতনকে মহান’ করে উপস্থাপন করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ভারতের সোশিয়াল মিডিয়াতেও এমন ধরণের সিনেমা নিয়ে রীতিমতো ট্রল করা হচ্ছে।

‘অপরায়ন’ এর রাজনীতি

 


সম্প্রতি ব্রাম্মনবাড়িয়াতে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের এক শিশুর লাশ কবর থেকে তুলে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। অবশ্য, আহমদিয়াদের উপর এমন আক্রমণ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এ বছরের জানুয়ারিতে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। আহমদিয়াদের উপর এমনতর হামলাকে বাংলাদেশ অপরাপর সংখ্যালঘুদের উপর হামলা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে পাঠ করা অসম্ভব। কিন্তু, আহমদিয়া শিশুর লাশ তুলে ফেলা বা বাড়িঘরে হামলা করার ঘটনাসমূহকে দেওবন্দীসহ বিভিন্ন ইসলামিস্ট দলগুলো কর্তৃক ‘অপরায়ন’ প্রক্রিয়া এবং সেই প্রক্রিয়ার ‘বাস্তবায়ন’ হিসাবেও দেখা দরকার।

শরিয়ত বয়াতি, শালীনতা ও নৈতিকতায় বন্দী বাকস্বাধীনতা, এবং সংবিধান

 

 

অপরাধে জড়িত বলেই বাউল শরিয়তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জানুয়ারি ২২, ২০২০ 

প্রায় ছয় মাস যাবত বাউল শরিয়ত সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জেলে বন্দী আছেন। সংবাদমাধ্যমের মারফতে জানা যাচ্ছে, বাউলের পরিবার এই করোনাকালে যেমন আর্থিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তেমনি বিভিন্ন মহলের ক্রমাগত হুমকি-ধামকির মধ্যে দিনযাপন করতে হচ্ছে। তারা এই মামলার খরচ টানতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

Saturday, January 23, 2021

বাকস্বাধীনতা: কি ফজিলত তাতে?


বাক-স্বাধীনতা মানে যে কোন বাক্যের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র একটি ব্যবস্থাই নেয়া যেতে পারে: আরেকটা বাক্য, লাগলে আরো একশ-হাজার বাক্য। বাক-স্বাধীনতা মানে মানুষের লিখিত বা উচ্চারিত কোন বাক্যের বিরুদ্ধেই বাক্য ছাড়া আর কোন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। বাক্যের বিরুদ্ধে বাক্য ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থার নাম ফ্যাসিবাদ।

- বখতিয়ার আহমেদ, ফেসবুক, ১৬ জুন ২০২০

Wednesday, January 20, 2021

ন্যাশনাল ক্যাটেকিজম।। মিখাইল বাকুনিন



১৮৪৮ সালের মহাবিদ্রোহের পর শ্রমজীবী মানুষের বৈপ্লবিক সংগঠন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে। পরবর্তী দেড় দশকজুড়ে বিপ্লবীদের পিছে ফেউয়ের মতো লেগে ছিল ইউরোপের সরকারগুলো। বিপ্লব তৎপরতা থেমে থাকেনি। নানাস্থানে গোপনে গড়ে উঠতে থাকে বিভিন্ন রকমের বিপ্লবী সংগঠন।১৮৪৮ সালের মহাবিদ্রোহের সময় রুশ বিপ্লবী মিখাইল বাকুনিন মুক্তিবাদী ছিলেন। স্বাধীনতার প্রাণস্পৃহা ছিল তার বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের মর্মে। বাকুনিন রচনা সংকলনের সম্পাদক ও অনুবাদক স্যাম ডলগফ মনে করেন, ১৮৬৬ থেকে রুশ বিপ্লবী বাকুনিন নৈরাজ্যবাদী ধ্যান-ধারণার জগতে প্রবেশ করেন। National Catechism বাকুনিনের নৈরাজ্যবাদ আলিঙ্গনের স্মারক রচনা। বিভিন্ন দেশে গড়ে ওঠা আন্দোলনের জন্য মৌলিক সংকল্প’র ধারণায়ন করেন। কেন্দ্রীভূত আমলাতান্ত্রিক ও সামরিক রাষ্ট্রকে একটা ফেডারেল সংগঠন দ্বারা প্রতিস্থাপনের সংকল্প এতে পষ্ট হয়। ফেডারেল সংগঠনের মৌলিক নীতিই হল: উপর থেকে নিচে নয়, নিচ থেকে উপরে। সংগঠন প্রশ্নে বাকুনিনের ফেডারেল পদ্ধতিই পরবর্তীকালে প্যারী কমিউনেরও সংগঠন প্রণালী ছিল। একই সঙ্গে তিনি জোর দেন সামাজিক বিপ্লবে। National Catechism লেখা হয় ১৮৬৬ সালে। স্যাম ডলগফ অনূদিত ও সম্পাদিত Bakunin on Anarchy গ্রন্থে রচনাটি সংকলিত হয়েছে। বইটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।- অরাজ সম্পাদক

Sunday, December 27, 2020

নব্য-মৌলবাদ প্রসঙ্গে অলিভার রয়: একটি সাক্ষাৎকার


অলিভার রয় ফরাসি রাজনৈতিক বিজ্ঞানী; পলিটিক্যাল ইসলাম, সেকুলারকরণ, জিহাদ, মৌলবাদ ইত্যাদি নিয়ে কাজ করেন। তাঁর Globalized Islam : The Search for a New Ummah কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। তিনি সেখানে এই সময়ের ইসলামি আন্দোলনের হাল হকিকত নিয়ে আলাপ করেছেন; পশ্চিমাকরণ, বিশ্বায়ন, আধুনিকতা ইত্যাদির মধ্যে বর্তমানের বিশ্বায়িত ইসলামের স্বরূপ খোজার চেষ্টা চালিয়েছেন। তার এই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস ওয়েবসাইটেই; সেখানে তিনি মূলত আলাপ করেছেন এই বই নিয়ে। আকারে ছোট কিন্তু আগ্রহোদ্দীপক সেই আলাপের প্রাসঙ্গিকতা এখনো হারায়নি। বরঞ্চ অলিভার রয়ের সাম্প্রতিক কাজ, যেমন জিহাদ এন্ড ডেথ, সেকুলারিজম কনফ্রন্টস ইসলাম, এই আলাপের পরিসর আরো বাড়িয়েছে। অলিভার রয়ের জিহাদ এন্ড ডেথ নিয়ে আলোচনার জন্য 'নব্য-জিহাদী কারা' শীর্ষক লেখাতে চোখ বুলানো যেতে পারে। 

Wednesday, December 16, 2020

বিজয়ের উদযাপনের মধ্যে উৎকট ‘জাতীয়তাবাদ’ ছাড়া আর কোনো কিছুই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না



কিশোর দা জেলে, সাংবাদিক কাজল জেলে, মত প্রকাশের দায়ে হরহামেশা জেলে যাচ্ছেন নাগরিকরা, ক্রসফায়ার নিত্য সঙ্গী, ঘাড়ের উপর ভর করে আছে উপনিবেশিক আইন-কানুন - এমন বাস্তবতায় বিজয়ের ৪৯তম পর্ব আমরা ‘উদযাপন’ করছি। এই জীবন আর ‘যাপন’ করা হয়ে উঠলো না, কেবল ক্ষণিকের ‘উদযাপনে’ই সীমিত রয়ে গেলো।

Sunday, October 18, 2020

আওয়ামী রেজিম আমাদের উপকারও করেছে!



আওয়ামীলীগ আমাদের কি কি উপকার করেছে- এমন বেশ কিছু লেখা কয়েকদিন আগে চোখে পড়েছে, বা হালকা চেখে দেখার সৌভাগ্যও হয়েছে। আপাতত কপালে ‘আওয়ামীবিরোধী’ সিলমোহর লেগে গিয়েছে, ফলে সবাই ধরেই নেন যে আমি কেবল লীগের বিরুদ্ধেই কথা বলি। বহুদিন আগে একবার বইমেলাতে একজন বড়ো ভাই বলেছিলেন, আচ্ছা সরকার যদি কোনো ভালো কাজ করে তাহলে কেন ধন্যবাদ দেও না। তখন খুব তেজের সাথে কইছিলাম, সরকারকে টাকা পয়সা দিয়ে পুষতাছি তো ভালো কাজেরই জন্য; তার তো এটাই করার কথা! গ্লাসের অর্ধেক ভরার জন্য তাকে ধন্যবাদ দেয়ার চাইতে জরুরি ও দরকারি কাজ হইতাছে গ্লাসের অর্ধেক খালি কেন সেটা প্রশ্ন করা। জনগণ তো ট্যাক্স দিচ্ছে গ্লাস ভরার জন্য। কিন্তু, আজকাল মনে হইতাছে আওয়ামী রেজিমের কিছু ভালো দিকের কথা উল্লেখ করাও দরকার। নাইলে বিষয়টা খুব একপেশে হয়ে যায়!

Wednesday, September 16, 2020

করোনাভাইরাস: যে আকস্মিকতা খোদ সম্ভাব্যতাকেই মুছে দিচ্ছে—ইমানুয়েল অ্যালোয়া



[অনুবাদকের মন্তব্য: করোনাভাইরাস মহামারী প্রসঙ্গে ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক ইমানুয়েল অ্যালোয়া (Emmanuel Alloa)-এর Coronavirus: A Contingency that Eliminates Contingency প্রবন্ধটি গত ২০শে এপ্রিলে CriticalInquiry সাইটে প্রকাশিত হয়। অনুবাদটি বোধিচিত্তের ফেসবুক পেজে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। 

Wednesday, July 15, 2020

একাত্তরের ‘দেশ’: মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তান আন্দোলন এবং কিছু খুচরা আলাপ


অফিসের কাজের জন্যই ১৯৭১ সালে প্রকাশিত ‘দেশ’ পত্রিকার সংখ্যাগুলো উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখছিলাম, গবেষকের দৃষ্টিতে নয়, নিখাদ ‘অমনযোগী’ পাঠক হিসাবে। একাত্তরে ‘দেশ’ -এর প্রধান মনযোগ ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধ ও পূর্ববাংলা’; প্রতিটি সংখ্যার সূচিতে চোখ বুলালেই এই কথার প্রমাণ পাওয়া যাবে। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিবিধ প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, কার্টুন, সাহিত্য-সমালোচনা, কবিতা, গল্প ছাপাচ্ছিল। মূলধারার মূখচেনা বহু লেখক-কবিদের লেখাপত্র নিয়মিত প্রকাশিত হতো: তারা সকলেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন। বিশ্লেষণধর্মী লেখাগুলোতে পূর্ববাংলার সমাজ- সাহিত্য- রাজনীতি- অর্থনীতি- আন্দোলন- মুক্তিযুদ্ধের গতিপথ- শরণার্থী সমস্যা এই সবই স্থান পেয়েছে। সুলিখিত প্রবন্ধ-নিবন্ধগুলো পড়তেও আরামদায়ক।

Monday, June 29, 2020

আলতাফ পারভেজের বয়ানে আলথুসের ও মার্ক্সীয় রাষ্ট্রতত্ত্বের ঐতিহ্যে ‘ভাবাদর্শ’


‘(যে রাষ্ট্রকে সমাজের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে সেই) রাষ্ট্রকে সমাজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসাই হলো মুক্তি’ -কার্ল মার্ক্স

 

বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ডের জনগণ হিসাবে আমরা অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটো রাষ্ট্রের জন্ম-প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত হলেও আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জগত ও পরিমণ্ডলে রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তাভাবনার অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। এমনকি, রাষ্ট্রনৈতিক যে হাজার রকমের চিন্তাভাবনা দুনিয়াজুড়ে চালু রয়েছে সেগুলো সম্পর্কেও আমাদের অদ্ভুত অনীহা রয়েছে। (হয়তোবা এর কোনো ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে, ইতিহাসের মধ্যে সেটার সন্ধান করাও জরুরি।) এই জন্যই বোধহয় এখনকার বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে দেশ, রাষ্ট্র, সরকার ধারণাগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে; ব্যতিক্রম তো অবশ্যই আছে।

Friday, June 26, 2020

কাগমারী সম্মেলন: মওলানা ভাসানীর রাজনীতির পুনঃপাঠ


মওলানা ভাসানীকে নিয়ে আলোচনা করা, বিশেষ করে যে ধারার আলোচনায় আমরা অভ্যস্ত, সেই ধারায় তাকে বিচার-বিশ্লেষণ করা খুব মুশকিলের কারণ, বিদ্যামান কোনো ছকে ফেলে তাকে যেমন কাবু করা যায় না, তেমনি ধরাও যায় না। আর পার্টিজান সাহিত্যে মওলানাকে আবদ্ধ করা প্রায় অসম্ভবই বলা যায়। আবার, বাংলাদেশের রাজনীতির যত ধারা বর্তমান, সেই ধারাগুলোর ঐতিহাসিক আলোচনা মওলানার উল্লেখ ব্যতীত সম্ভবও নয়। যার ফলে, ডান-বাম-মধ্য সকল পন্থীওয়ালার কাছে মওলানা থাকেন, তবে সেটা খণ্ডিত আকারে। মওলানার কিছু অংশ লীগ গ্রহণ করে, কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে তারা রীতিমতো গালাগালি শুরু করে দেন। আবার, কমিউনিস্টরা মওলানাকে নেন, কিন্তু এই মওলানা নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন। তাই বিপত্তি ঘটে যায় তাদের বেলাতেও। মওলানার নামাজ-রোজা দেখে ধর্মীয় রাজনীতির মানুষেরা আবেগে আপ্লুত হয়ে তার কাছে যায়, কিন্তু যখন জমির মালিকানার বিষয়ক সবক শোনে তখন তারাও ধরা পড়ে যায়। ‘পন্থী’ওয়ালাদে বাইরে জনসাধারণের ভেতর আরেক মওলানার অস্তিত্বও খোঁজে পাওয়া যায়, যিনি পীর, যিনি সবকিছু উজাড় করে দিয়ে সবাইকে ভালোবাসেন। খণ্ডিত এই মওলানাকে কেউ কেউ আসমানে তুলে ফেলেন, আবার কেউ কেউ মিশিয়ে দিতে চান মাটির সাথে। তবে মওলানার রাজনীতির রাজনৈতিক তাৎপর্য আমাদের আলোচনার টেবিলে খুব একটা আসে না।

Sunday, June 14, 2020

স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ: নৈরাজ্যবাদ প্রসঙ্গে হাওয়ার্ড জিন

 

অনুবাদকের কৈফিয়ত

হাওয়ার্ড জিন প্রখ্যাত আমেরিকান ইতিহাসবিদ, চিন্তক ও বুদ্ধিজীবী। প্রায় বিশের অধিক বই-পুস্তক লিখেছেন, পাশাপাশি নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যুদ্ধ-বিরোধী আন্দোলন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ইতিহাস নিয়ে বিস্তর লেখালেখি করেছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, আলাপ-আলোচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত ও প্রভাবশালী ‘A People's History of the United States’ গ্রন্থ সম্পর্কে প্রায় সকলেই জানেন, সিনেমা থেকে শুরু করে বিদ্বৎসমাজ সবখানেই এই গ্রন্থ বহুরূপে উল্লেখিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন এয়ারফোর্সে যোগদান করেছিলেন, এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝে গিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের দোহাই দিয়ে সাধারণ জনগণের ত্যাগ-তিতিক্ষাকে ব্যবহার করে গুটিকয়েক ফায়দা হাসিল করেন। আজীবন বিভিন্ন ধরণের যুদ্ধ-বিরোধী আন্দোলন ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে গিয়েছেন।

Friday, June 5, 2020

এনিমেল ফার্মের ‘ভূমিকা’ ও বাক স্বাধীনতার প্রসঙ্গ


এনিমেল ফার্ম অরওয়েলের শৈল্পিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে একীভূত করার প্রথম সচেতন প্রয়াস; কথাটা আমার নয়, খোদ জর্জ অরওয়েলই বলেছেন। এই উপন্যাস লেখার চিন্তা তার মাথায় এসেছিল ১৯৩৭ সালের দিকে, এবং ৪৩ এর আগ পর্যন্ত এটা লিখতে পারেন নি। এই সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হিটলারের বাহিনীকে পরাস্ত করতে ব্রিটিশ শক্তি ও সোভিয়েত শক্তি হাতে হাত মিলিয়ে একত্রে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছিল। ব্রিটিশদের সাথে সোভিয়েতের এই ক্ষণিকের ‘প্রেম’ অরওয়েলের এই ‘সচেতন প্রয়াস’ প্রকাশে নানারূপী বাঁধা হাজির করেছিল। এনিমেল ফার্ম প্রকাশে তাকে যে ঝুট-ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল এবং এমন ঝুটঝামেলা আসলে কোন প্রবণতাকে স্পষ্ট করে তার এক প্রস্থ বিবরণ তিনি বইয়ের ‘ভূমিকা’য় উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু, দুঃখজনকভাবে এই ভূমিকা ছাড়াই এনিমেল ফার্ম প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে, এবং ১৯৭১ এর আগ পর্যন্ত এই ভূমিকার হদিস পাওয়া যায় নি। একাত্তরে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে ‘দি ফ্রিডম অব প্রেস’ শিরোনামে এই ভূমিকা পাওয়া যায়, এবং বাহাত্তরে সেটা আলোর মুখ দেখে।