
মওলানা ভাসানীকে নিয়ে
আলোচনা করা, বিশেষ করে যে ধারার আলোচনায় আমরা অভ্যস্ত,
সেই ধারায় তাকে বিচার-বিশ্লেষণ করা খুব
মুশকিলের কারণ, বিদ্যামান কোনো
ছকে ফেলে তাকে যেমন কাবু করা যায় না, তেমনি ধরাও যায় না। আর
পার্টিজান সাহিত্যে মওলানাকে আবদ্ধ করা প্রায় অসম্ভবই বলা যায়। আবার, বাংলাদেশের রাজনীতির যত ধারা বর্তমান, সেই ধারাগুলোর ঐতিহাসিক আলোচনা মওলানার উল্লেখ ব্যতীত সম্ভবও নয়। যার
ফলে,
ডান-বাম-মধ্য সকল
পন্থীওয়ালার কাছে মওলানা থাকেন, তবে সেটা খণ্ডিত আকারে। মওলানার
কিছু অংশ লীগ গ্রহণ করে, কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে তারা রীতিমতো
গালাগালি শুরু করে দেন। আবার, কমিউনিস্টরা মওলানাকে নেন, কিন্তু এই মওলানা নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন। তাই
বিপত্তি ঘটে যায় তাদের বেলাতেও। মওলানার নামাজ-রোজা দেখে ধর্মীয়
রাজনীতির মানুষেরা আবেগে আপ্লুত হয়ে তার কাছে যায়, কিন্তু
যখন জমির মালিকানার বিষয়ক সবক শোনে তখন তারাও ধরা পড়ে যায়। ‘পন্থী’ওয়ালাদে বাইরে জনসাধারণের ভেতর আরেক মওলানার
অস্তিত্বও খোঁজে পাওয়া যায়, যিনি পীর, যিনি সবকিছু
উজাড় করে দিয়ে সবাইকে ভালোবাসেন। খণ্ডিত এই মওলানাকে কেউ কেউ আসমানে
তুলে ফেলেন, আবার কেউ কেউ মিশিয়ে দিতে চান মাটির সাথে। তবে মওলানার রাজনীতির রাজনৈতিক তাৎপর্য
আমাদের আলোচনার টেবিলে খুব একটা আসে না।