Showing posts with label মুক্তিযুদ্ধ. Show all posts
Showing posts with label মুক্তিযুদ্ধ. Show all posts

Friday, August 12, 2022

‘শূন্যের ভিতরে এতো ঢেউ’: স্মৃতিতে তারেক মাসুদ

 ... আমি বলিব ঢাকা শহরে তারেক মাসুদ নাই বলিয়া এই শহরকে বসবাসের আরো অযোগ্য মনে হইতেছে।’

- সলিমুল্লাহ খান

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্যে (বিশেষত গল্প, সিনেমা, উপন্যাসে) কোনো সন্দেহ নেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের জয়জয়কার; এই জাতীয়তাবাদ তার ‘সেকুলার’ চরিত্র ধারণ করার জন্য অদ্ভুতভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মকে একধরনের বিপরীত মেরুতে ঠেলে দিয়েছে, অথবা বলা যায় মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মকে বিপরীত হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের অধিকাংশ সিনেমা-নাটকে-উপন্যাসে রাজাকারের একটা সাধারণ চিত্রায়ন থাকে: রাজাকারের দাড়ি থাকে, পাঞ্জাবি-পাজামা পরে, মাথায় টুপি থাকে, মাদ্রাসা বা মসজিদে ইমামতি করে, নিয়মিত যায়। ‘দাড়ি-টুপি’ দিয়ে রাজাকারের এই চিত্রায়ন কতটা সত্য আর কতটা আত্মপরিচয়ের রাজনীতির খাতিরে ‘নির্মিত’ তা খুব একটা বিচার করে দেখা হয় নি। বরঞ্চ, এই চিত্রায়ন আমাদের মাথার এতো গভীরে ঢুকে গিয়েছে যে, প্রতিদিনকার জীবন-যাপনে বন্ধুবান্ধবদের কেউ যদি দাড়ি-টুপি পরেছে তখন অন্যদের বলতে শুনেছি, ‘আরে শালা তোরে তো রাজাকার লাগে’কিন্তু, এই ‘দাড়ি-টুপিওয়ালা’দের রাজাকার বা ভিলেন হিসেবে একরৈখিক উপস্থাপন এখানে যে কালচারাল হেজিমনে তৈরি করেছে তার ফলাফল হয়েছে ভয়ঙ্কর; শাহবাগের সময় জাতীয়তাবাদ ও ধর্ম প্রশ্নে এমনভাবে পুরো দেশের একধরনের আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যাওয়ার একটা কারণ বোধহয় আমাদের এই চলমান সাংস্কৃতিক আধিপত্যের মধ্যেও পাওয়া যেতে পারে।

Wednesday, September 2, 2020

Stop Genocide: a demand to stop brutality and injustice




ZAHIR Raihan, one of the most leading filmmakers of Bangladesh, has actively participated in almost all the movements during the Pakistan period. From the Language Movement to the Liberation War, his involvement was multidimensional. His involvement with all those movements played a vital role in the characterisation of his works and had helped in portraying the mass awakening of his time in all his films, stories, and novels.

Tuesday, January 22, 2019

গণহত্যা অস্বীকার গণহত্যারই অংশ


গবেষকদের কাছে ম্যাসাকার, গণহত্যা, পলিটিসাইড শব্দগুলো মূলত ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। তাই স্বাভাবিকভাবে একটা প্রশ্ন চলে আসে, একাত্তরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক এই হত্যাযজ্ঞকে কি তাহলেগণহত্যাবা Genocide বলা যায়? পাকিস্তানীদের আক্রমণে প্রচুর সংখ্যক বাঙালি প্রাণ হারিয়েছে বটে তবে সেটাগণহত্যানয়! তখন যুদ্ধ চলছিল দেশব্যাপী, যুদ্ধের সময় এমন প্রাণহানি হবেই! যারা একাত্তরের গণহত্যাকে স্বীকার করতে চান না তাদের যুক্তিগুলো অনেকটা এ ধরণের। এই যুক্তিকে ঘিরেই মূল আলোচনা। বিশেষজ্ঞরা গণহত্যার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে প্রচুর একাডেমিক আলোচনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন পাঁচ ধাপে সংঘটিত হয়, কেউবা আট ধাপের কথা বলেছেন, আবার কেউ দশ ধাপের কথাও বলেছেন। তবে, সবার মূল সুর আসলে একই।

Saturday, January 12, 2019

সাক্ষাৎকার ১৯৭১: রক্তটাতো এই মাটির সাথেই মিশে আছে


নাম: অসীত বরণ দে
পিতার নাম: ক্ষিতিশ চন্দ্র দে
পিতার পেশা: মেডিকেল অফিসার, চা বাগান
ঠিকানা: করের পাড়া, পাঠানঠুলা, সিলেট।
১৯৭১ সালে বয়স: আনুমানিক ২১
১৯৭১ সালে পেশা: ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র
বর্তমানে পেশা: ট্রাভেল এজেন্সি

শুরুর কথা
উনিশ শতকের গোড়ার দিকে চা’র সন্ধান পাওয়া যায় আসাম অঞ্চলে; পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক শাসক ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছে এ বাগানগুলোর আকর্ষণ এবং দুর্ভিক্ষ ও দরিদ্র-পীড়িত অঞ্চল থেকে সস্তা শ্রমিক আনার কারণে আসাম, সিলেট প্রভৃতি অঞ্চলে চা শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে। ‘গাছ হিলায়েগা তো পায়সা মিলেগা’ বলে বিহার, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্রিশগড় অঞ্চল থেকে ভূমিহীন দরিদ্র মানুষগুলোকে চা বাগানে নিয়ে আসে ব্রিটিশরা।

Friday, February 2, 2018

গণহত্যা, প্রোপ্যাগান্ডা এবং দৈনিক সংগ্রাম

       


ভূমিকা

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দশক থেকে শেষ দশক পর্যন্ত - আর্মেনিয়া থেকে শুরু করে নাৎসি জার্মানি, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ), বসনিয়া, কম্বোডিয়া হয়ে রুয়ান্ডা পর্যন্ত - পৃথিবী এত বেশী সিস্টেমেটিক হত্যাযজ্ঞ দেখেছে এবং এত অধিক সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে যে গত শতাব্দীকে রক্তাক্ত শতাব্দীবললে অত্যুক্তি হবে না। শতাব্দীর মাঝামাঝিতে ‘genocide’ বলতে একটা নতুন শব্দ তাই প্রবর্তন করতে হয়। এই গণহত্যা কখনো হুট-হাট করে ঘটে যাওয়া কোন দুর্ঘটনা নয়, বরং এটা সবসময়ই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল হয়ে থাকে। কোন একক প্রভাবকের দ্বারা কখনোই এটা প্রভাবিত হয় না, একটি সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামোগুলোও বেশ প্রভাব রাখে এতে। গণহত্যা চলাকালীন সময়ে হত্যাযজ্ঞে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, গণহত্যার তীব্রতা বাড়াতে এবং গণহত্যাকে বৈধতা দিতে আক্রমণকারীর প্রয়োজন পড়ে ব্যাপক প্রোপ্যাগান্ডার। এই প্রোপ্যাগান্ডার ধরণ এবং মাত্রা সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তবুও, তাদের মধ্যে কতক সাধারণ মিল লক্ষ্য করা যায় সবসময়। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রগতির সাথে সাথে গণহত্যা এবং তাতে প্রোপ্যাগান্ডার ব্যবহারেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের সংগঠিত গণহত্যায় পাকিস্তানিদের সহযোগী গোষ্ঠীর মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামএর অবদান কেমন ছিল এবং গণহত্যার তীব্রতা বাড়াতে তাদের ভূমিকা কতটুকু ছিল, তাই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। শুরুতেই, তাইসংক্ষেপে গণহত্যা এবং প্রোপ্যাগান্ডা বিষয়ে কিছু আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে, উদাহরণস্বরূপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং রুয়ান্ডার ঘটনার দিকে আলোকপাত করা হয়েছে। 

Sunday, January 21, 2018

জহির রায়হান: নিখোঁজ ও অপেক্ষার হাজার বছর

            

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও কথাসাহিত্যিক জহির রায়হান মিরপুরে তাঁর বড়দা, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে আসেন নি। তাঁর এই ফিরে না আসা তখন থেকেই জন্ম দেয় বিভিন্ন রহস্য ও তর্ক-বিতর্কের। তাই, দেখা যায় জহির রায়হান নিহতহয়েছেন না বলে আমরা বলতে থাকি তিনি নিখোঁজহয়েছেন। যেহেতু তিনি নিহত হয়েছেন বাহাত্তরের জানুয়ারিতে, কিংবা কারো কারো মতে হারিয়ে গেছেন, তাই কেউ কেউ তাঁর মৃত্যুকে মুক্তিযুদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখাতে থাকেন এবং এর কারণে, এরশাদ সরকার ফতোয়া দেয়, তাকে মুক্তিযুদ্ধের শহিদও বলা যাবে না। তবে রহস্য ও বিতর্কের ডালপালা ছড়ায় অন্য কারণে। মূলত যে প্রশ্নকে ঘিরে বিতর্ক চলতে থাকে তা হচ্ছে, জহির রায়হানকে কারা মারল, কিংবা কাদের হাতে জহির রায়হান মারা গেলেন, কিংবা কারা জহির রায়হানকে গুম করলো। এই প্রশ্নগুলোর জবাবে তখন অধিকাংশই তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলেন। সেটারও যথেষ্ট কারণ ছিল।

১৯৭১: নারীর প্রতি সহিংসতা




এটা আসলে এঞ্জেলা দেবনাথের ‘Bangladesh Genocide: Plight of Women’ শিরোনামের গবেষণামূলক প্রবন্ধের অনুবাদ। অনুবাদ না বলে রূপান্তর  বলাই শ্রেয় হবে। মূলত এটা গবেষণা পেপার, কিন্তু দাড় করানো হয়েছে সাধারণ প্রবন্ধ আকারেই। লেখায় ব্যবহৃত পাদটীকাগুলো মূল লেখকের নয়, অনুবাদকের। উল্লেখ্য, স্যামুয়েল টোটেনের সম্পাদনায় 'Plight and Fate of Women During and Following Genocide' নামে যে বই প্রকাশিত হয়, তার তৃতীয় অধ্যায় ছিল বাংলাদেশ বিষয়ক এই আর্টিকেলটি। 

একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের স্বরূপ: কেন এবং কারা জড়িত?




‘There has been no major revolution in modern history without intellectuals; conversely there has been no major counterrevolutionary movement without intellectuals. Intellectuals have been the fathers and mothers of movements, and of course sons and daughters, even nephews and nieces’. - EDWARD W. SAID