Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts

Monday, June 10, 2024

ইসলাম ও গণতন্ত্র : একটি বাহাসের সন্ধানে


খালেদ আবু এল ফাদল ইসলামি আইনশাস্ত্রের নামজাদা আলেম। ইসলামি আইন, শরিয়া সহ ইসলামের নানা শাখা নিয়ে অজস্র কিতাবাদি রচনা করেছেন। ২০০৩ সালে তিনি ‘ইসলাম এন্ড চ্যালেঞ্জ অফ ডেমোক্রেসি’ নামে এক দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেন। এই প্রবন্ধকে কেন্দ্র করে বেশ বড়সড় বাহাস তৈরি হয়, যেখানে নাদের হাশমি, জেরেমি ওয়াল্ড্রন, সাবা মাহমুদ, মোহাম্মদ ফাদেল সহ প্রায় ১১জন অংশ নেন। কেউ কেউ ফাদলের অবস্থানের প্রশংসা করেন, কেউ কেউ ক্রিটি করেন। ফাদল পরে আবার সেগুলোর সম্মিলিত জবাব দেন। এই পুরো বাহাসই পরে কিতাব আকারে প্রকাশিত হয়েছিল।

Friday, August 12, 2022

‘শূন্যের ভিতরে এতো ঢেউ’: স্মৃতিতে তারেক মাসুদ

 ... আমি বলিব ঢাকা শহরে তারেক মাসুদ নাই বলিয়া এই শহরকে বসবাসের আরো অযোগ্য মনে হইতেছে।’

- সলিমুল্লাহ খান

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্যে (বিশেষত গল্প, সিনেমা, উপন্যাসে) কোনো সন্দেহ নেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের জয়জয়কার; এই জাতীয়তাবাদ তার ‘সেকুলার’ চরিত্র ধারণ করার জন্য অদ্ভুতভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মকে একধরনের বিপরীত মেরুতে ঠেলে দিয়েছে, অথবা বলা যায় মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মকে বিপরীত হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের অধিকাংশ সিনেমা-নাটকে-উপন্যাসে রাজাকারের একটা সাধারণ চিত্রায়ন থাকে: রাজাকারের দাড়ি থাকে, পাঞ্জাবি-পাজামা পরে, মাথায় টুপি থাকে, মাদ্রাসা বা মসজিদে ইমামতি করে, নিয়মিত যায়। ‘দাড়ি-টুপি’ দিয়ে রাজাকারের এই চিত্রায়ন কতটা সত্য আর কতটা আত্মপরিচয়ের রাজনীতির খাতিরে ‘নির্মিত’ তা খুব একটা বিচার করে দেখা হয় নি। বরঞ্চ, এই চিত্রায়ন আমাদের মাথার এতো গভীরে ঢুকে গিয়েছে যে, প্রতিদিনকার জীবন-যাপনে বন্ধুবান্ধবদের কেউ যদি দাড়ি-টুপি পরেছে তখন অন্যদের বলতে শুনেছি, ‘আরে শালা তোরে তো রাজাকার লাগে’কিন্তু, এই ‘দাড়ি-টুপিওয়ালা’দের রাজাকার বা ভিলেন হিসেবে একরৈখিক উপস্থাপন এখানে যে কালচারাল হেজিমনে তৈরি করেছে তার ফলাফল হয়েছে ভয়ঙ্কর; শাহবাগের সময় জাতীয়তাবাদ ও ধর্ম প্রশ্নে এমনভাবে পুরো দেশের একধরনের আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যাওয়ার একটা কারণ বোধহয় আমাদের এই চলমান সাংস্কৃতিক আধিপত্যের মধ্যেও পাওয়া যেতে পারে।

Tuesday, April 19, 2022

কৃষক, মওলানা ভাসানী ও ‘কৃষক সমিতি’



মওলানা ভাসানীকে নিয়ে যারা আলাপ করেছেন তারা প্রায় সকলেই বলেছেন, বা সরাসরি না বললেও তাদের কথাবার্তা থেকে বোঝা যায় যে, ভাসানীর রাজনীতিকে কোনো একটা খোপে ধরতে পারা কঠিন। প্রায় সকলেই চেষ্টা করেছেন, স্বাভাবিকভাবেই, কোনো দলীয় বা কোনো একটি মতাদর্শিক খোপে ফেলে তাঁর রাজনীতিকে বিচার-বিশ্লেষণ করার। তাঁর ব্যর্থতাকে কেউ কেউ সরাসরি কমিউনিস্টদের ব্যর্থতারই একটা আলামত হিসেবে পাঠ করেছেন[1], কেউবা তাঁর মধ্যে ‘এনার্কিস্ট হওয়া’র[2] আলামত পেয়েছিলেন; আর তাঁর ধর্মীয় অরিয়েন্টেশন তো এখনো বহুল আলোচিত বিষয়। বর্তমানে অনেক বিশ্লেষক ও তাত্ত্বিক ভাসানীর রাজনীতি ও ধর্মের ভেতর একটা যোগসূত্র হিসেবে মুক্তিমুখিন ধর্মতত্ত্বের কথা বলছেন।[3] এই আলাপ চলমান, দৃঢ় তত্ত্বীয় পাটাতনে এখনো দাড়ায়নি। অন্যদিকে ধর্মের সাথে এমন নিবিড় যোগসূত্র থাকার কারণে তাতে সামন্তবাদ-প্রতিক্রিয়াশীলতার ছায়া দেখনেওয়ালা লোকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাঁর সম্পর্কে এতসব অস্পষ্ট আলাপচারিতা আরেকটা বিষয় হাজির করে: দক্ষিণ এশিয়াতে এতো বৈচিত্র্যময় নেতা বোধহয় খুব কম এসেছিলেন।

Thursday, March 3, 2022

সেকুলারিজমের খোঁজে।। রোমিলা থাপার


[অনুবাদকের মন্তব্য: প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার লন্ডন ইউনিভার্সিটির, দিল্লি ইউনিভার্সিটি ও নয়া দিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির প্রাচীন ইতিহাসের প্রাক্তন অধ্যাপক; বর্তমানে জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির এমিরেটারস অধ্যাপক। ২০১৫ সালের ১৯ আগস্টে রোমিলা থাপার জামিয়া মিল্লিয়াতে আসগর আলি ইঞ্জিনিয়ার স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন। পরবর্তীতে দ্যা ওয়ার (১৮ অক্টোবর ২০১৫) নামক ওয়েব পোর্টাল তার সেই বক্তৃতাটি What Secularism is and Where It Needs to Be Headed শিরোনামে প্রকাশ করে।] 

Monday, January 3, 2022

‘প্রভিন্সিয়ালাইজিং ইউরোপ’ প্রসঙ্গে দীপেশ চক্রবর্তীর সাথে আলাপচারিতা


অনুবাদকের মন্তব্য: নিম্নবর্গের ইতিহাসবিদ হিসেবে খ্যাত দীপেশ চক্রবর্তী আমাদের কাছে খুবই পরিচিত এক নাম। বিশেষত তাঁর ‘প্রভিন্সিয়ালাইজিং ইউরোপ’ দুনিয়াজুড়ে বহুল পঠিত ও আলোচিত গ্রন্থ। সম্প্রতি এই বইয়ের দুই-দশক পূর্তি উপলক্ষ্যে বইটি নিয়ে নানাবিধ পর্যালোচনা চলেছে, যাতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিজীবীরা। বাংলাদেশেও বুদ্ধিবৃত্তিক ও পরিবর্তনকামী ক্রিটিকাল রাজনৈতিক পরিসরে এই বইটি নিয়ে আলাপ-পর্যালোচনা বিদ্যমান।

অনূদিত এই সাক্ষাতকারটিতে মূলত দীপেশ চক্রবর্তী ‘প্রভিন্সিয়ালাইজিং ইউরোপ’ বইয়ের প্রকল্প প্রসঙ্গে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। এছাড়াও সাবলটার্ন স্টাডিজের শুরু দিককার অনুসন্ধানের অভিমুখ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কেও মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চার কিছু নির্দিষ্ট সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন। দীপেশ চক্রবর্তী তাঁর আরেক গুরুত্বপূর্ণ বই The Calling of History : Sir Jadunath Sarkar and His Empire of Truth প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভারতবর্ষের গণতন্ত্র, ইতিহাস, ইতিহাস-রচনার নানা খুঁটিনাটি দিক সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন, যা আগ্রহী পাঠকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে আমাদের বিশ্বাস। (উল্লেখ্য, ‘দ্য কলিং অফ হিস্ট্রি’ নিয়ে শুদ্ধস্বরে প্রকাশিত দীপেশের আরেকটি অনূদিত সাক্ষাৎকার দেখা যেতে পারে।) অনুবাদের ক্ষেত্রে সাবলটার্ন স্টাডিজ এবং নিম্নবর্গের অধ্যয়ন দুই-ই নির্বিচারে ব্যবহার করা হয়েছে।  

দীপেশ চক্রবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে লরেন্স এ কিম্পটন ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর। প্ল্যানেটারি তথা গ্রহীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জলবায়ু সংকট ও অতিমারির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সংক্রান্ত তাঁর লেখালেখিকে সমগ্র বিশ্বেই বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর The Climate of History in a Planetary Age গ্রন্থ।

অনুবাদটি ২০১৬ সালে Critical Theory Workshop ওয়েবসাইটে ‘Provincializing Europe: In Conversation With Dipesh Chakrabarty’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়।

আই হেট নিউ ইয়ার্স ডে।। আন্তনীও গ্রামসি


সাজ্জাদ স্যারের বদৌলতে আন্তনীও গ্রামসির I Hate New Year’s Day নামে এই পিচ্ছি নিবন্ধ/মন্তব্য পড়ার সুযোগ পেলাম। লেখাটি মূলত প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালের ১ জানুয়ারি। Avanti!-তে।আমি যেটা পড়েছি সেটা প্রকাশিত হয় জেকোবিনে; ২০১৬ সালে। ২০২২ সালের নববর্ষের দিনে লেখাটা পড়েছি, অইদিনই অনুবাদ করে ফেলি গরম-গরম অবস্থায়। অনুবাদে পরিভাষাগত কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। গোচরে আনলে কৃতজ্ঞ থাকবো। শুরুতেই তাই শুকরিয়া জ্ঞাপন করে দিচ্ছি। 

Tuesday, February 23, 2021

ক্রাইসিস এজ ফ্রিডম: আল্লামা ইকবাল ও ওয়াল্টার বেঞ্জামিন।। আসাদ ডানডিয়া



কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসাদ ডানডিয়া'র Crisis as Freedom: Muhammad Iqbal and Walter Benjamin লেখাটি গত ২৪শে জানুয়ারিতে LOS ANGELES REVIEW OF BOOKS (LARB) ওয়েব পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে। এই অনুবাদে, আল্লামা ইকবালের উদ্ধৃতিগুলোর ক্ষেত্রে ‘ইসলামে ধর্মীয় চিন্তার পুনর্গঠন’ এর বাংলা অনূদিত [প্রথমা থেকে প্রকাশিত] গ্রন্থ থেকে সাহায্য নেয়া হয়েছে। কখনো কখনো বাক্যগুলো হুবহু এই গ্রন্থ থেকেই তুলে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াল্টার বেঞ্জামিনের থিসিসগুলো অনুবাদে পারভেজ আলমের লেখাপত্রের সাহায্য নেয়া হয়েছে। অনুবাদক ও বোধিচিত্ত ইকবালের গ্রন্থটির অনুবাদক ও পারভেজ আলমের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে। অনুবাদটি প্রথম বোধিচিত্তে প্রকাশিত হয়।

Wednesday, September 2, 2020

Stop Genocide: a demand to stop brutality and injustice




ZAHIR Raihan, one of the most leading filmmakers of Bangladesh, has actively participated in almost all the movements during the Pakistan period. From the Language Movement to the Liberation War, his involvement was multidimensional. His involvement with all those movements played a vital role in the characterisation of his works and had helped in portraying the mass awakening of his time in all his films, stories, and novels.

Wednesday, July 15, 2020

একাত্তরের ‘দেশ’: মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তান আন্দোলন এবং কিছু খুচরা আলাপ


অফিসের কাজের জন্যই ১৯৭১ সালে প্রকাশিত ‘দেশ’ পত্রিকার সংখ্যাগুলো উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখছিলাম, গবেষকের দৃষ্টিতে নয়, নিখাদ ‘অমনযোগী’ পাঠক হিসাবে। একাত্তরে ‘দেশ’ -এর প্রধান মনযোগ ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধ ও পূর্ববাংলা’; প্রতিটি সংখ্যার সূচিতে চোখ বুলালেই এই কথার প্রমাণ পাওয়া যাবে। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিবিধ প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, কার্টুন, সাহিত্য-সমালোচনা, কবিতা, গল্প ছাপাচ্ছিল। মূলধারার মূখচেনা বহু লেখক-কবিদের লেখাপত্র নিয়মিত প্রকাশিত হতো: তারা সকলেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন। বিশ্লেষণধর্মী লেখাগুলোতে পূর্ববাংলার সমাজ- সাহিত্য- রাজনীতি- অর্থনীতি- আন্দোলন- মুক্তিযুদ্ধের গতিপথ- শরণার্থী সমস্যা এই সবই স্থান পেয়েছে। সুলিখিত প্রবন্ধ-নিবন্ধগুলো পড়তেও আরামদায়ক।

Friday, June 26, 2020

কাগমারী সম্মেলন: মওলানা ভাসানীর রাজনীতির পুনঃপাঠ


মওলানা ভাসানীকে নিয়ে আলোচনা করা, বিশেষ করে যে ধারার আলোচনায় আমরা অভ্যস্ত, সেই ধারায় তাকে বিচার-বিশ্লেষণ করা খুব মুশকিলের কারণ, বিদ্যামান কোনো ছকে ফেলে তাকে যেমন কাবু করা যায় না, তেমনি ধরাও যায় নাআর পার্টিজান সাহিত্যে মওলানাকে আবদ্ধ করা প্রায় অসম্ভবই বলা যায়আবার, বাংলাদেশের রাজনীতির যত ধারা বর্তমান, সেই ধারাগুলোর ঐতিহাসিক আলোচনা মওলানার উল্লেখ ব্যতীত সম্ভবও নয়যার ফলে, ডান-বাম-মধ্য সকল পন্থীওয়ালার কাছে মওলানা থাকেন, তবে সেটা খণ্ডিত আকারেমওলানার কিছু অংশ লীগ গ্রহণ করে, কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে তারা রীতিমতো গালাগালি শুরু করে দেনআবার, কমিউনিস্টরা মওলানাকে নেন, কিন্তু এই মওলানা নামাজ পড়েন, রোজা রাখেনতাই বিপত্তি ঘটে যায় তাদের বেলাতেওমওলানার নামাজ-রোজা দেখে ধর্মীয় রাজনীতির মানুষেরা আবেগে আপ্লুত হয়ে তার কাছে যায়, কিন্তু যখন জমির মালিকানার বিষয়ক সবক শোনে তখন তারাও ধরা পড়ে যায়পন্থীওয়ালাদে বাইরে জনসাধারণের ভেতর আরেক মওলানার অস্তিত্বও খোঁজে পাওয়া যায়, যিনি পীর, যিনি সবকিছু উজাড় করে দিয়ে সবাইকে ভালোবাসেনখণ্ডিত এই মওলানাকে কেউ কেউ আসমানে তুলে ফেলেন, আবার কেউ কেউ মিশিয়ে দিতে চান মাটির সাথেতবে মওলানার রাজনীতির রাজনৈতিক তাৎপর্য আমাদের আলোচনার টেবিলে খুব একটা আসে না

Friday, June 5, 2020

এনিমেল ফার্মের ‘ভূমিকা’ ও বাক স্বাধীনতার প্রসঙ্গ


এনিমেল ফার্ম অরওয়েলের শৈল্পিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে একীভূত করার প্রথম সচেতন প্রয়াস; কথাটা আমার নয়, খোদ জর্জ অরওয়েলই বলেছেন। এই উপন্যাস লেখার চিন্তা তার মাথায় এসেছিল ১৯৩৭ সালের দিকে, এবং ৪৩ এর আগ পর্যন্ত এটা লিখতে পারেন নি। এই সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হিটলারের বাহিনীকে পরাস্ত করতে ব্রিটিশ শক্তি ও সোভিয়েত শক্তি হাতে হাত মিলিয়ে একত্রে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছিল। ব্রিটিশদের সাথে সোভিয়েতের এই ক্ষণিকের প্রেমঅরওয়েলের এই সচেতন প্রয়াসপ্রকাশে নানারূপী বাঁধা হাজির করেছিল। এনিমেল ফার্ম প্রকাশে তাকে যে ঝুট-ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল এবং এমন ঝুটঝামেলা আসলে কোন প্রবণতাকে স্পষ্ট করে তার এক প্রস্থ বিবরণ তিনি বইয়ের ‘ভূমিকা’য় উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু, দুঃখজনকভাবে এই ভূমিকা ছাড়াই এনিমেল ফার্ম প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে, এবং ১৯৭১ এর আগ পর্যন্ত এই ভূমিকার হদিস পাওয়া যায় নি। একাত্তরে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে দি ফ্রিডম অব প্রেস’ শিরোনামে এই ভূমিকা পাওয়া যায়, এবং বাহাত্তরে সেটা আলোর মুখ দেখে।

Monday, December 2, 2019

জেনোসাইড ও জেনোসাইড ডিনায়েল: প্রাথমিক আলাপ-সালাপ


সংজ্ঞার খোঁজে
জেনোসাইড শব্দের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নতুন, পোলিশ আইনজীবী রাফায়েল লেমকিন এই শব্দ প্রথবারের মতো ১৯৪৪ সালে ব্যবহার করেন।[1] এই শব্দের জন্মের পূর্বেই পৃথিবী অসংখ্যবার এই অপরাধ দেখে ফেলে। তাই, লিও কুপার বলেছিলেন যে, শব্দ নতুন হলেও অপরাধ পুরাতন। প্রাচীনকালের মহাকাব্য বা বিভিন্ন ধর্মের ইতিহাস খুজলেও জেনোসাইডের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া যায়, তবে আধুনিক কালে এসে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের প্রাক্কালে এই অপরাধের নতুন মাত্রা সংযোজন হয়েছে। মাত্রা ও তীব্রতার নতুনত্ব এত বেশি যে, অনেক সমাজবিজ্ঞানী জেনোসাইডকে ‘মডার্নিজম’ ও ‘রাষ্ট্রে’র সাথে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করে থাকেন। মানে আধুনিক যুগের জেনোসাইডের সাথে পূর্বের জেনোসাইডের মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। ইউরোপে নাৎসিবাদের হালচাল দেখে উইনস্টন চার্চিল একে বলেছিলেন ‘We are in the presence of a crime without a name!’[2] তাই ‘নামহীন এই অপরাধে’র নাম কি হবে সে সময় প্রশ্নটা জোরেশোরেই আলোচনায় চলে আসে। রাফায়েল লেমকিনের Axis Rule in Occupied Europe বইটা প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালের নভেম্বরে। সেখানেই তিনি ‘জেনোসাইড’ শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন, এবং পরবর্তীতে এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়।

Tuesday, January 22, 2019

গণহত্যা অস্বীকার গণহত্যারই অংশ


গবেষকদের কাছে ম্যাসাকার, গণহত্যা, পলিটিসাইড শব্দগুলো মূলত ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। তাই স্বাভাবিকভাবে একটা প্রশ্ন চলে আসে, একাত্তরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক এই হত্যাযজ্ঞকে কি তাহলেগণহত্যাবা Genocide বলা যায়? পাকিস্তানীদের আক্রমণে প্রচুর সংখ্যক বাঙালি প্রাণ হারিয়েছে বটে তবে সেটাগণহত্যানয়! তখন যুদ্ধ চলছিল দেশব্যাপী, যুদ্ধের সময় এমন প্রাণহানি হবেই! যারা একাত্তরের গণহত্যাকে স্বীকার করতে চান না তাদের যুক্তিগুলো অনেকটা এ ধরণের। এই যুক্তিকে ঘিরেই মূল আলোচনা। বিশেষজ্ঞরা গণহত্যার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে প্রচুর একাডেমিক আলোচনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন পাঁচ ধাপে সংঘটিত হয়, কেউবা আট ধাপের কথা বলেছেন, আবার কেউ দশ ধাপের কথাও বলেছেন। তবে, সবার মূল সুর আসলে একই।

Saturday, January 12, 2019

সাক্ষাৎকার ১৯৭১: রক্তটাতো এই মাটির সাথেই মিশে আছে


নাম: অসীত বরণ দে
পিতার নাম: ক্ষিতিশ চন্দ্র দে
পিতার পেশা: মেডিকেল অফিসার, চা বাগান
ঠিকানা: করের পাড়া, পাঠানঠুলা, সিলেট।
১৯৭১ সালে বয়স: আনুমানিক ২১
১৯৭১ সালে পেশা: ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র
বর্তমানে পেশা: ট্রাভেল এজেন্সি

শুরুর কথা
উনিশ শতকের গোড়ার দিকে চা’র সন্ধান পাওয়া যায় আসাম অঞ্চলে; পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক শাসক ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছে এ বাগানগুলোর আকর্ষণ এবং দুর্ভিক্ষ ও দরিদ্র-পীড়িত অঞ্চল থেকে সস্তা শ্রমিক আনার কারণে আসাম, সিলেট প্রভৃতি অঞ্চলে চা শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে। ‘গাছ হিলায়েগা তো পায়সা মিলেগা’ বলে বিহার, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্রিশগড় অঞ্চল থেকে ভূমিহীন দরিদ্র মানুষগুলোকে চা বাগানে নিয়ে আসে ব্রিটিশরা।

Tuesday, August 14, 2018

জহির রায়হান: মুক্তির আলো জ্বালাতে চেয়েছিলেন যিনি



জীবন থেকে নেয়াসিনেমা শেষ হয়েছিল মুক্তিনামের এক নবজাতকের জন্মের মধ্য দিয়ে এবং সিনেমার মুক্তির মাত্র এক বছরের মধ্যেই পাকিস্তানিদের কারাগার থেকে আমরাও মুক্তি পেয়েছিলাম; সেটা ছিল বহু ত্যাগের, বহু রক্তের, বহু সংগ্রামের মাধ্যমে প্রাপ্ত মুক্তি। তাই আমরাও সিনেমার নবজাতককে পাকিস্তানের কারাগার থেকে প্রাপ্ত এই মুক্তির সাথে মিলিয়ে দেখতে পছন্দ করি, এবং দেখিও। তবে, আরেকটা প্রশ্নও উত্থাপন করা যায়, সিনেমায় জহির রায়হান যে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কিংবা দেখেছিলেন সেটা কি একাত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল নাকি আরো বড় কিছু ছিল? এবং যদি আরো বড় কোন মুক্তির কথা বলা হয়েই থাকে ইতিহাসের পরবর্তী পর্যায়ে তার কতটা আমরা অর্জন করতে পেরেছি? উত্তরের সন্ধান তাঁর সেই সিনেমার মধ্যেই করা যেতে পারে।

Sunday, April 1, 2018

জহির রায়হানের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ও আমাদের আফসোসের গল্প


জাতীয় জীবনে কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যা সে ঘটনাত্তোর যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে; প্রাত্যহিক জীবন থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্য সবকিছুই সে প্রভাব-বলয়ের ভেতরে থাকে। কখনো ঘটনার পটভূমি ও এর চেতনা জন্ম দেয় লেখক - কবিকে, আবার কখনো লেখক-কবিদের অস্তিত্বের বিরাট অংশ জুড়ে থাকে সেই ঘটনা। বাঙালির  জীবনে বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন তেমনই এক অভূতপূর্ব সময়, যা একদিকে আমাদের জন্যে সৃষ্টিশীল ও মননশীল কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছিলে, অন্যদিকে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছিল সকল অন্যায়-শোষণের বিরুদ্ধে, প্রেরণা দিয়েছিল এক নতুন রাষ্ট্রের জন্মদানে। সৈয়দ শামসুল হক তো তাদের প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের সন্তানবলেই চিহ্নিত করেছিলেন। বায়ান্নর ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক ক্ষণে ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী প্রথম দশজনের মধ্যে একজন ছিলেন জহির রায়হান। জহির রায়হানের সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে যে কোন আলোচনার শুরুতে এই তথ্য মাথায় গেঁথে নেয়া উচিৎ; কেননা সে আন্দোলন তাঁর জীবনে এত গভীর ছাপ ফেলেছে যে, হুমায়ূন আজাদ রায় দিয়েছেন, জহির রায়হান সম্ভবত বাংলাদেশের একমাত্র কথাসাহিত্যিক যার উদ্ভবের পেছনে আছে ভাষা আন্দোলন। যদি বায়ান্নর একুশ না ঘটত তবে জহির রায়হান হয়ত কথাশিল্পী হতেন না।

Tuesday, February 20, 2018

ফেব্রুয়ারি: বসন্ত, দ্রোহ ও ভালোবাসার সম্মিলন


ফেব্রুয়ারি – দ্রোহের মাসভালোবাসার মাস। ফেব্রুয়ারি আমাদের সন্ধান দেয় নতুন পথেরনতুন কণ্ঠেরনতুন সুরেরনতুন দিনের। ভালোবাসা যদি সমষ্টিগত হয়ে থাকেতাহলে এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে ত্যাগের নিদর্শনসেই নিদর্শনের সাক্ষাৎ পাই আমরা ফেব্রুয়ারিতে। নিজের ভাষার প্রতি মানুষের প্রেম তুলনাহীনকেননাভাষার সাথে জড়িয়ে থাকে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। তাইশাসকেরা ভাষার প্রতি এই ভালোবাসাকে ভয় পায়আর শাসক যদি উপনিবেশিক ধারার হয় তাহলে ভাষার উপরে দিয়েই বয়ে যায় সর্বাধিক ঝড়-ঝাপটা।

Friday, February 2, 2018

গণহত্যা, প্রোপ্যাগান্ডা এবং দৈনিক সংগ্রাম

       


ভূমিকা

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দশক থেকে শেষ দশক পর্যন্ত - আর্মেনিয়া থেকে শুরু করে নাৎসি জার্মানি, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ), বসনিয়া, কম্বোডিয়া হয়ে রুয়ান্ডা পর্যন্ত - পৃথিবী এত বেশী সিস্টেমেটিক হত্যাযজ্ঞ দেখেছে এবং এত অধিক সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে যে গত শতাব্দীকে রক্তাক্ত শতাব্দীবললে অত্যুক্তি হবে না। শতাব্দীর মাঝামাঝিতে ‘genocide’ বলতে একটা নতুন শব্দ তাই প্রবর্তন করতে হয়। এই গণহত্যা কখনো হুট-হাট করে ঘটে যাওয়া কোন দুর্ঘটনা নয়, বরং এটা সবসময়ই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল হয়ে থাকে। কোন একক প্রভাবকের দ্বারা কখনোই এটা প্রভাবিত হয় না, একটি সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামোগুলোও বেশ প্রভাব রাখে এতে। গণহত্যা চলাকালীন সময়ে হত্যাযজ্ঞে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, গণহত্যার তীব্রতা বাড়াতে এবং গণহত্যাকে বৈধতা দিতে আক্রমণকারীর প্রয়োজন পড়ে ব্যাপক প্রোপ্যাগান্ডার। এই প্রোপ্যাগান্ডার ধরণ এবং মাত্রা সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তবুও, তাদের মধ্যে কতক সাধারণ মিল লক্ষ্য করা যায় সবসময়। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রগতির সাথে সাথে গণহত্যা এবং তাতে প্রোপ্যাগান্ডার ব্যবহারেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের সংগঠিত গণহত্যায় পাকিস্তানিদের সহযোগী গোষ্ঠীর মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামএর অবদান কেমন ছিল এবং গণহত্যার তীব্রতা বাড়াতে তাদের ভূমিকা কতটুকু ছিল, তাই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। শুরুতেই, তাইসংক্ষেপে গণহত্যা এবং প্রোপ্যাগান্ডা বিষয়ে কিছু আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে, উদাহরণস্বরূপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং রুয়ান্ডার ঘটনার দিকে আলোকপাত করা হয়েছে। 

Sunday, January 21, 2018

জহির রায়হান: নিখোঁজ ও অপেক্ষার হাজার বছর

            

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও কথাসাহিত্যিক জহির রায়হান মিরপুরে তাঁর বড়দা, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে আসেন নি। তাঁর এই ফিরে না আসা তখন থেকেই জন্ম দেয় বিভিন্ন রহস্য ও তর্ক-বিতর্কের। তাই, দেখা যায় জহির রায়হান নিহতহয়েছেন না বলে আমরা বলতে থাকি তিনি নিখোঁজহয়েছেন। যেহেতু তিনি নিহত হয়েছেন বাহাত্তরের জানুয়ারিতে, কিংবা কারো কারো মতে হারিয়ে গেছেন, তাই কেউ কেউ তাঁর মৃত্যুকে মুক্তিযুদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখাতে থাকেন এবং এর কারণে, এরশাদ সরকার ফতোয়া দেয়, তাকে মুক্তিযুদ্ধের শহিদও বলা যাবে না। তবে রহস্য ও বিতর্কের ডালপালা ছড়ায় অন্য কারণে। মূলত যে প্রশ্নকে ঘিরে বিতর্ক চলতে থাকে তা হচ্ছে, জহির রায়হানকে কারা মারল, কিংবা কাদের হাতে জহির রায়হান মারা গেলেন, কিংবা কারা জহির রায়হানকে গুম করলো। এই প্রশ্নগুলোর জবাবে তখন অধিকাংশই তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলেন। সেটারও যথেষ্ট কারণ ছিল।

১৯৭১: নারীর প্রতি সহিংসতা




এটা আসলে এঞ্জেলা দেবনাথের ‘Bangladesh Genocide: Plight of Women’ শিরোনামের গবেষণামূলক প্রবন্ধের অনুবাদ। অনুবাদ না বলে রূপান্তর  বলাই শ্রেয় হবে। মূলত এটা গবেষণা পেপার, কিন্তু দাড় করানো হয়েছে সাধারণ প্রবন্ধ আকারেই। লেখায় ব্যবহৃত পাদটীকাগুলো মূল লেখকের নয়, অনুবাদকের। উল্লেখ্য, স্যামুয়েল টোটেনের সম্পাদনায় 'Plight and Fate of Women During and Following Genocide' নামে যে বই প্রকাশিত হয়, তার তৃতীয় অধ্যায় ছিল বাংলাদেশ বিষয়ক এই আর্টিকেলটি।