লেখক: সহুল আহমদ ও সারোয়ার তুষার
জর্জ অরওয়েল ১৯৪৪ সালে 'ফ্যাসিবাদ কী' নামে ছোট্ট এক প্রবন্ধে ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞা নির্ধারন করতে গিয়ে দেখিয়েছিলেন, রক্ষণশীল, কমিউনিস্ট, সোশালিস্ট, ক্যাথলিক, জাতীয়তাবাদী সকলেই কোন না কোনভাবে একে অপরকে ফ্যাসিস্ট বলে গালি দিচ্ছেন; তারা সবাই ফ্যাসিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছিলেন, but not by the same people। মূলত, ফ্যাসিবাদের কোন নির্দিষ্ট প্যাটার্ন নেই, একেক সমাজে একেক দেশে একেক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একেক রূপ ধারন করে । একনায়কত্বের বেশেও ফ্যাসিবাদ যেমন ঢুকতে পারে তেমনি সেটা গণতান্ত্রিক মুখোশেও ঢুকতে পারে। ফ্যাসিবাদ যেমন দমন-পীড়ন করে, তেমনি প্রোপ্যাগান্ডার মাধ্যমে জনগণকে নিজের দিকে টেনে আনার নীতিও মেনে চলে এবং অর্ধসত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণে জনগণকে কৌশলে নিজেদের দিকে নিয়ে আসাটাকেই বেশি ব্যবহার করা হয় সাধারণত। তাই, ফ্যাসিবাদ একটি কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকাঠামো কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনকে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণের মতবাদ হওয়া সত্ত্বেও সামরিক স্বৈরতন্ত্রের সাথে এর কিছু পার্থক্য লক্ষ করা যায় - সামরিক স্বৈরতন্ত্রের কোন জনসমর্থন থাকেনা, অপরদিকে ফ্যাসিবাদের বৈধতা চেতন কিংবা অবচেতনভাবে জনগণের কাছ থেকেই আসে। ফ্যাসিবাদকে চিহ্নিত করার জন্যে নির্দিষ্ট কোন চারিত্রিক লক্ষণ না থাকলেও জাতীয়তাবাদের উগ্রতা, ধর্মের ব্যবহার, একটা কল্পিত শত্রু তৈরি করা ও প্রোপাগান্ডার চূড়ান্ত রকমের ব্যবহার সহ কিছু কমন বৈশিষ্টের দেখা মেলে। এ প্রসঙ্গে বামতাত্ত্বিক শিবদাষ ঘোষের মন্তব্য উল্লেখযোগ্য, ‘একদিকে উগ্র জাতীয়তাবাদের বিষে মানুষকে ফ্যানাটিক (অতিশয় উগ্র) করা, অন্যদিকে পুরনো ঐতিহ্যবাদ এবং ভাসাভাসা সমাজতন্ত্র, বিপ্লব আর প্রগতির স্লোগান-এই তিনটিকে যদি একত্রে মেলানো যায় তাহলেই একটা দেশে ফ্যাসিবাদের জমি তৈরি হয়’। মূলত যেকোন ফ্যাসিবাদই কোন না কোন আশ্বাসে পরিচালিত, তা সে কোন রাষ্ট্রকে 'গ্রেইট' কিংবা 'শাইনিং' কিংবা 'ডিজিটাল' বানানোর নামেই হোক।
